নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতের জয়। অ্যারিজোনা থেকে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হলেন চিকিৎসক আমিশ শাহ। ৪৮ বছরের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এই জয়ের সঙ্গে ইতিহাস গড়লেন। অ্যারিজোনা থেকে এই প্রথম কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি কংগ্রেসে গেলেন। একই সঙ্গে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত ষষ্ঠ ভারতীয়-আমেরিকান হলেন শাহ।
বুধবার নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী এবং প্রাক্তন এনএফএল তারকা জে ফিলিকে হারিয়েছেন শাহ। ফিলির সমর্থনে প্রচারে নেমেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এই লড়াইয়ে বাড়তি রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল। শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত ৫২.৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন শাহ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলি পেয়েছেন ৪৫.৪৫ শতাংশ ভোট। বুধবার রাত ৮টা ৩৯ মিনিটে (স্থানীয় সময়) শাহের জয় ঘোষণা করে ডেসিশন ডেস্ক এইচকিউ।
জয়ের পর সমাজমাধ্যমে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শাহ। তিনি লেখেন, ‘অ্যারিজোনা, তোমাদের পরবর্তী কংগ্রেস সদস্য হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো সম্মান।’ নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলির প্রশংসাও করেছেন তিনি। শাহ বলেন, ‘সরকারি পদে নির্বাচনের লড়াই সহজ নয়। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জে ফিলিকে অভিনন্দন জানাই।’
নির্বাচনী এলাকার সব ভোটারের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘এই জেলার প্রত্যেক ভোটারকে আমি প্রতিনিধিত্ব করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে থাকুন বা না থাকুন, সকলের জন্যই কাজ করব।’ নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক বিভাজন কমানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ কমানো, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি বাড়ানো, জলের সঙ্কট মেটানো এবং অর্থনীতির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। শাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষাক্ত পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে জীবনযাত্রার খরচ কমানো, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি বাড়ানো, জলের সঙ্কটের সমাধান এবং অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ বার কাজে নামার সময়।’
শাহের জয়ে অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে এল। ভারতীয়-আমেরিকানদের সংগঠন ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শাহ স্থানীয় মানুষের স্বার্থে কাজ করে এসেছেন। এবার ওয়াশিংটনে গিয়ে কর্মজীবী পরিবারগুলির জন্য লড়াই করবেন তিনি।
সংগঠনের নির্বাহী অধিকর্তা চিন্তন প্যাটেল জানিয়েছেন, একের পর এক মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই আসন জয় করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘তিনি ২৮ হাজারেরও বেশি বাড়ির দরজায় পৌঁছেছেন। এই জেলার ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ বহন করতে না পারা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগের কথা শুনেছেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসাবে তিনি নিজের চোখে দেখেছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে পরিবারগুলিকে কী সমস্যায় পড়তে হয়। সেই খরচ কমানোর লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে লড়েছেন।’
রাজনৈতিক মতাদর্শে শাহ ও ফিলি পরস্পরের বিপরীত শিবিরে থাকলেও তাঁদের অতীতে একটি যোগসূত্র রয়েছে। শাহ নিউ ইয়র্ক জেটসের চিকিৎসক হিসাবে কাজ করেছেন। সেই দলেই একসময় কিকার ছিলেন ফিলি। ফলে চিকিৎসক শাহের সঙ্গে প্রাক্তন এনএফএল তারকা ফিলির পরিচয় বহু দিনের।
১৯৬০-এর দশকে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়া গুজরাতি বাবা-মায়ের সন্তান শাহের জন্ম শিকাগোয়। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর সেখানকার মেডিক্যাল স্কুলে চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন সম্পূর্ণ মেধাবৃত্তি নিয়ে। নিউ ইয়র্কের ব্যস্ততম প্রথম স্তরের ট্রমা সেন্টারে জরুরি চিকিৎসা বিভাগে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। তাঁর বাবা জৈন এবং মা হিন্দু। চিকিৎসক থেকে রাজনীতির ময়দানে এসে এ বার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন আমিশ শাহ।




