নিউজ ডেস্ক: ছোটবেলা থেকে মহাভারতের নানা কাহিনি শুনেছেন। কখনও টেলিভিশনের পর্দায়, কখনও বইয়ের পাতায়। অর্জুনের তিরন্দাজি, কৃষ্ণের উপদেশ, দ্রৌপদীর অপমান কিংবা কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ সবই কমবেশি পরিচিত। কিন্তু এবার সেই মহাভারত নিয়েই করা যাবে স্নাতকোত্তর! শুধু গল্প পড়া নয়, মহাকাব্যের দর্শন, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা সব কিছু নিয়েই হবে বিস্তারিত পড়াশোনা। নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়। দু’বছরের এই বিশেষ পাঠক্রমের নাম এমএ ইন মহাভারত স্টাডিজ।
প্রশ্ন হল, মহাভারতের ১৮টি মূল পর্ব, ১০০টি উপপর্ব এবং প্রায় এক লক্ষ শ্লোক পড়লেই কি মিলবে ডিগ্রি? একেবারেই নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা, মহাভারতকে শুধুমাত্র একটি মহাকাব্য হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে পড়ানো হবে। মূল সংস্কৃত পাঠের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পড়াশোনা
এই পাঠক্রমে মূলত চারটি দিকের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
১. সাহিত্য ও মহাকাব্যের পাঠ: মহাভারতের কাহিনি, চরিত্র, আখ্যান নির্মাণের পদ্ধতি এবং সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে পড়ানো হবে। পাশাপাশি সংস্কৃত শ্লোকের অনুবাদ ও বিশ্লেষণও থাকবে। মহাভারতকে কাব্য এবং ইতিহাস দুই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বুঝতে হবে পড়ুয়াদের।
২. দর্শন ও জীবনবোধ: ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ এই চার পুরুষার্থের ধারণা বিস্তারিতভাবে শেখানো হবে। পাশাপাশি ভগবদ্গীতা, মোক্ষধর্ম, আত্মতত্ত্ব, নীতিবোধ এবং মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে মহাভারতের দর্শনও পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
৩. সমাজ ও রাজনীতি: প্রাচীন ভারতের রাজধর্ম, শাসনব্যবস্থা, কূটনীতি, উত্তরাধিকার, বিবাহপ্রথা, নারীর অবস্থান, বর্ণাশ্রম এবং গুরুকুল শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। অর্থাৎ মহাভারতের সময়কার সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে।
৪. সভ্যতা ও সংস্কৃতি: ভারতীয় সভ্যতায় মহাভারতের প্রভাব, মহাকাব্যে উল্লেখিত বিভিন্ন স্থানের বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে পড়ানো হবে।
২৭০০ ঘণ্টার ক্লাস, সঙ্গে গবেষণা
এই কোর্সটি মোট ৯০ ক্রেডিটের। দুই বছরের পাঠক্রমে প্রায় ২৭০০ ঘণ্টার ক্লাসরুম লার্নিং থাকবে। এর পাশাপাশি ২০ ক্রেডিটের একটি ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট করতে হবে। থাকবে ফিল্ডওয়ার্ক, স্বাধীন গবেষণা এবং মহাভারতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ। যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য সরকারি স্কলারশিপের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি সংস্থা ইন্ডিকার সঙ্গে যৌথভাবে এই পাঠক্রম পরিচালনা করবে। তবে কোর্স শেষে কী ধরনের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, মহাভারতকে শুধু ধর্মীয় বা পৌরাণিক কাহিনি হিসেবে নয়, সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বোঝার এক নতুন সুযোগ তৈরি হতে চলেছে এই বিশেষ স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে।




