নিউজ ডেস্ক: গায়ানার পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসীমা বাড়ানোর ঘোষণা করল ভারত। বুধবার অ্যান্টিগা ও বারবুডায় কমনওয়েলথের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনের ফাঁকে গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলির সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পরেই গায়ানার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ঋণসীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন জয়শঙ্কর।
মঙ্গলবার সেন্ট জনসে পৌঁছেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। বুধবার কমনওয়েলথের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনের ফাঁকে গায়ানার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পরে সমাজমাধ্যমে সেই বৈঠকের কথা জানিয়ে জয়শঙ্কর লেখেন, ‘গায়ানার প্রেসিডেন্ট ডঃ ইরফান আলির সঙ্গে দেখা করে আনন্দিত। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের পর থেকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার যে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করেছি।’
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর জানান, ‘রাস্তা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসীমা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।’
শুধু ঋণসীমা বাড়ানোই নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নেও দুই দেশ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গায়ানায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন প্রকল্পের সরবরাহ ও স্থাপনের বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য অনুদান দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত ও গায়ানা। দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং গায়ানায় ভারতের ইউপিআইয়ের মতো একটি অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলি দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এর আগে কমনওয়েলথের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ব্যবসায়ী নেতাদের প্রাতঃরাশ বৈঠকেও যোগ দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেখানে কমনওয়েলথের সহযোগী দেশগুলিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপগুলির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন জয়শঙ্কর।




