কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে দেবশিল্পীর আরাধনা হয়। তাঁর আরাধনা হয় প্রতিটি ছোট বড় কলকারখানায়, প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে, মিডিয়া ও অন্যান্য হাউসের যন্ত্র-বিভাগ, এবং ছোট বড় অসংখ্য যানবাহন তথা যন্ত্রপাতির দোকানে। এই সমস্ত জায়গার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোতেও বিশ্বকর্মার আরাধনা হয়।
গত বছর পর্যন্ত সেই অর্থে বিশ্বকর্মা পুজো হয়নি যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। হয়তো প্রতিটি বিভাগে ছোট করে পুজো হয়েছে, তবে সাংগঠনিকভাবে এই পুজো একত্রীকরণ হয়নি। ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় করে বিশ্বকর্মা পূজা হতে পারে- এই ধারণাটাই কারো ছিল না। কিন্তু সেই ধারণাটাই এ বছর পাল্টে গিয়েছে। এবং এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে এবিভিপি-বিএমএস জোট। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, বিজেপির গেরুয়াকরণের প্রভাবে, তাদের ছত্রছায়ায় থাকা এই সংগঠনগুলি যাদবপুরের মতন একটি কলেজে সাংগঠনিকভাবে বিশ্বকর্মা পুজো করে দেখাল। আয়োজন করেছিল যাদবপুরের টেকনোলজি বিভাগ।
পশ্চিমবঙ্গে মসনদ বিজেপির দখলে এসেছে সাড়ে তিন মাস। এর মধ্যেই বঙ্গে গেরুয়া রাজনীতি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে যাদবপুরে এসএফআই বনাম এবিভিপি-র লড়াই। যে লড়াই আসলে শিক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষায়তনে ক্ষমতা দখলের লড়াই।
এই লড়াইতে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য ফলাতে চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের ছত্র ছায়ায় থাকা এবিভিপি অর্থাৎ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ এই আজ মেতে উঠেছে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনায়। এমনকি এটাও বোঝা যাচ্ছে, যাদবপুরে যেখানে পুজো নিয়ে কোন মাতামাতি তো দুরস্থান,উচ্চবাচ্যই ছিল না- সেখানে কিন্তু পুজো তথা ধর্ম নিয়ে একটা বিশেষ স্থান রাখতে চলেছে গেরুয়া শিবির। আর এই পুজো ঘিরে যথেষ্টই আনন্দে রয়েছে এবিভিপি সদস্য সদস্যরা তথা বিএমএস-র প্রত্যেকটি সদস্যরাও। আর তাই এই পুজো নিয়ে যথেষ্টই উচ্ছ্বাস ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। তারা আনন্দে ভাসছেন।
এই পুজো সম্বন্ধে উদ্যোক্তাদের একজন সদস্য বলেন- '১লা মে পশ্চিমি দুনিয়ার শ্রমিকদের সম্মানে শ্রমিক দিবস পালন করা হয়। তেমনি আজ ভারতীয় সংস্কৃতিতে শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার জন্মতিথি অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পূজা। এই জন্মতিথি সতেরই সেপ্টেম্বর। এই দিনটি আমরা ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে পালন করতে চলেছি। বিশ্বকর্মা শুধু শিল্পের দেবতাই নন, তিনি এই জগতের প্রথম শ্রমিক। আর তাই এই দিনটি আমরা ভারতীয় সংস্কৃতিতে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করি।'
বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের এক সদস্যা বলেন- 'এর আগে আমরা পুজোটা করতে পারিনি। কারণ কিছু লোকের কোণঠাসা করার প্রবণতা ছিল। আজ আমরা সেই প্রবণতা প্রতিহত করতে পারছি বলেই এই পুজোটা আমরা আয়োজন করতে পেরেছি। আমরা খুব খুশি।'
এবিভিপি-র এক সদস্য এই পুজো সম্বন্ধে বলেন- 'অখিল ভারতীয় পরিষদ'কে বিভিন্নভাবে দাবানোর চেষ্টা করেছিল। এর আগে সরস্বতী পূজার পারমিশন নিতে গেলে দু তিন দিন ধরে ঘুরতে হতো। আমরা জানি না তখনকার রেজিস্টার যাঁরা ছিলেন- দায়িত্বপ্রাপ্ত তাঁদের কিসের বিভ্রান্তি ছিল বা ভয় ছিল। তবে তারা যা করেছেন তা আটকাতে গেলে যেভাবে লড়তে হয় আমরা সেই ভাবে লড়বো। আমরা প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে যাচ্ছি তাদের সমস্ত সমস্যা জানছি।'
তবে এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা গিয়েছে, যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- যেখানে একসময় সরস্বতী পুজো করতে গেলেও ছাত্র-ছাত্রীদের বাধার সম্মুখীন হতে হতো, সেখানে আজ বিশ্বকর্মা পুজো হয়েছে। আর এখানেই জিতে গিয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি, ছাত্র-ছাত্রীদের আবেগ, এবং কোথাও গিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার সফলতাও।