শান্তিপুর, নিউজ ডেস্ক: একদিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ দুই পক্ষ। এরই মধ্যে বাড়িতে শুরু হয়েছিল আরেক কাজ। কিন্তু সেই কাজ কিরে আচমকা হাজির হন এক ব্যক্তি। শুরু হয় বচসা তারপর পরিস্থিতি গড়ায় হাতাহাতিতে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই থানার দরজায় পৌঁছে যায় অভিযোগ। পুরনো জমি বিবাদের নেপথ্যে কি এবার যোগ হল নতুন কোনও চাপের ঘটনা? নাকি গোটা বিষয়টির পিছনে রয়েছে অন্য সমীকরণ?
ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া বয়রার এলাকার। ভাইয়ে ভাইয়ে পুরনো জমি ও শরিকি বিবাদ মেটানোর নামে নিয়মিত টাকা দাবি এবং বাড়িতে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক বিজেপি নেত্রীর স্বামী তাপস পাল ওরফে নিতাইয়ের বিরুদ্ধে। তিনি বেলঘড়িয়া এক নম্বর অঞ্চলের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যা সুমনা পাল সরকারের স্বামী। ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের তরফে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সুদেষ্ণা ঘোষ ও তার ননদ রমা বিদান্তের দাবি, সাধন ঘোষ এবং তাঁর ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ চলছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাপস পাল গত ১৫ দিন ধরে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করেছিলেন। অভিযোগ, প্রতিবারই তিনি পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করতেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বুধবার সকালে তাঁদের বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় তাপস পাল সেখানে এসে কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। এরপর অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে দাবি তাঁদের। প্রতিবাদ করতে গেলে সুদেষ্ণা ও রমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে, আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করে তাঁরা থানায় যান।
যদিও, তাপস পাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে উল্লেখ করে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বিতর্কিত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সেখানে বেআইনি কাজ হচ্ছে বলে খবর পেয়ে তিনি একজন প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি দেখতে গিয়েছিলেন। তাপসের আরও অভিযোগ, এক আইনজীবের মাধ্যমে তাঁকে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর আরও দাবি, অপরপক্ষ প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি তছরূপ করেছে। টাকা দাবি বা মারধরের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে প্রশাসনের দারস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দুই পক্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। জমি সংক্রান্ত নথি, আদালতের নির্দেশ এবং সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।