নন্দীগ্রাম, নিউজ ডেস্ক: দোড়গোড়ায় উপনির্বাচন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী পারদ চড়তে শুরু করেছে। তবে এবার ভোটের প্রচারের থেকেও রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র জটিলতা ও সংঘাত। জোড়াফুল প্রতীকের দাবিদার হয়েও শেষ পর্যন্ত নতুন রাজনৈতিক দল এবং ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক। আর এই নতুন প্রতীক ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যা গড়াতে চলেছে আদালত পর্যন্ত।
উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই জোড়াফুল প্রতীকের ওপর অধিকার নিয়ে নন্দীগ্রামে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। একই চিহ্নের দাবিদার হিসেবে ময়দানে ছিলেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূলের সঞ্চিতা প্রধান দে এবং মহম্মদ এহতেশামুল হক। ফলে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। শেষমেশ পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন সঞ্চিতা প্রধান দে নির্বাচন দপ্তর থেকে নিজের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে সঞ্চিতাদেবী সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি, বজায় রেখেছেন সম্পূর্ণ নীরবতা।
সঞ্চিতা প্রধান দে সরে দাঁড়ালেও এহতেশামুল হক জোড়াফুল প্রতীক পাননি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ও দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তিনি একটি নতুন ব্যানারে লড়াইয়ের ছাড়পত্র পান। দলের নাম রাখা হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাঁর অনুকূলে বরাদ্দ করা হয় ‘খাম’ প্রতীক। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী এহতেশামুল হক জানান, নেতৃত্বের গাইডলাইন ও সমস্ত নির্বাচনী বিধি মেনে লড়াইয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। নন্দীগ্রামের আমজনতার সমর্থনের ওপর ভরসা রেখে তিনি খুব শীঘ্রই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবিড় জনসংযোগ শুরু করবেন বলেও বার্তা দেন।
তবে এহতেশামুল হকের খাম প্রতীক পাওয়ার খবর সামনে আসতেই নির্বাচনী আসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইএসএফ এই প্রতীক বণ্টনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। নন্দীগ্রামে আইএসএফ প্রার্থী মিরাজ খানের অভিযোগ,খাম প্রতীকটি তাঁদের ছিল। একই বিধানসভা কেন্দ্রে অন্য একটি দলের প্রার্থীকে কমিশন কীভাবে সেই একই প্রতীক দিতে পারে, তা নিয়ে তিনি গভীর বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, উপনির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের ময়দান ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।