জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক বঞ্চনার অবসান, জলপাইগুড়িতে সরকারি ফ্লেক্স আঁচল দিয়ে মুছলেন আপ্লুত বৃদ্ধা। রাজনীতির নোংরা হিসেবনিকেশ যখন সাধারণ মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নেয়, তখন সবচেয়ে বেশি টান পড়ে প্রান্তিক এলাকার মানুষগুলির ওপর। জলপাইগুড়ির এক বৃদ্ধার জীবনেও ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল। অপরাধ? তাঁর ছেলে নাকি তৎকালীন শাসক দলের বিরোধী শিবির করতেন। আর সেই আক্রোশেই বৃদ্ধার প্রাপ্য বার্ধক্য ভাতা আটকে রাখা হয়েছিল মাসের পর মাস। পঞ্চায়েত থেকে ব্লক অফিস, দরজায় দরজায় ঘুরেও মেলেনি সমাধান,জুটেছে কেবল রাজনৈতিক আনুগত্য না থাকার শাস্তি।
অবশেষে কাটল সেই খরা। কেন্দ্রের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে তাঁর ভাতা বরাদ্দ হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এইটুকু নিশ্চিত সংস্থান পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন তিনি।
টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই সোজা বিডিও অফিসে ছুটে যান সেই বৃদ্ধা। অফিসের দেওয়ালে টাঙানো খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের এক ফ্লেক্সে তখন ধুলো জমেছে, যেখানে ছিল প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তাদের মুখ। সেই ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। শাড়ির আঁচলটা টেনে পরম মমতায় ব্যানারের ধুলো মুছতে শুরু করেন। মুখে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নেই, কেবল হাতজোড় করা এক বুকভরা স্বস্তি আর কৃতজ্ঞতা।




