তেহট্ট: তেহট্টে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত নদিয়ার রাজনীতি। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তেহট্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মহুয়া মৈত্র। তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি-সহ মোট আটজন বিজেপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার তেহট্ট-১ নম্বর ব্লকে একটি ঘরোয়া বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন বাইরে বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। গোটা ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে সরব হন তৃণমূল সাংসদ।
মহুয়ার অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বেই এই বিক্ষোভ এবং ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকী পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া এত লোক সেখানে জমায়েত হতে পারতেন না বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশকর্মীরা এগিয়ে আসেন। পুলিশের সঙ্গে মহুয়ার বাকবিতণ্ডাও হয়। তবে পুলিশের বক্তব্য, তেহট্টে ওই ঘরোয়া বৈঠকের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। ফলে বৈঠক ঘিরে জমায়েত এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের তরফে ‘চোর, চোর’ স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। পালটা মহুয়ার অনুগামীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। নিজের গাড়িতে ডিম পড়ার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংসদ। তিনি জানান, ফের এমন ঘটনা ঘটলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাববেন।
এর আগেও কালীগঞ্জে একই ধরনের ডিম ছোড়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। আদালতের তরফে তাঁকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তেহট্টে ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে মহুয়ার অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। তেহট্টের বিজেপি বিধায়ক দাবি করেছেন, ঘটনাটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী বা সমর্থক জড়িত নন।
ফলে একদিকে তৃণমূল সাংসদের অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা, অন্যদিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকারবাদুই পক্ষের বক্তব্যে তেহট্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে। এখন পুলিশের তদন্তে এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য কতটা সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।