মেমারি: বিধায়কের নাম করে টাকা চাওয়া বা তোলাবাজির অভিযোগ এলে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। বৃহস্পতিবার রাতে মেমারির বামুনপাড়া মোড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তোলাবাজি নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিধায়কের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা চাইতে এলে প্রথমে তাকে আটকাতে হবে এবং পরে বিধায়ককে খবর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানব গুহ বলেন, তাঁর নাম করে কেউ এসে টাকা দাবি করলে যেন কেউ সেই দাবি মেনে না নেন। বরং এমন ব্যক্তিকে আটক করে তাঁকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিধায়কের কথায়, “বিধায়কের নাম করে যদি কেউ এসে বলে, টাকা দিতে হবে, আগে কানের গোড়ায় একটা থাবড়ে দেবেন। তারপর বলবেন, বিধায়ককে ডেকে নিয়ে আয়।”
শুধু টাকা দাবি করা নয়, তোলাবাজির অভিযোগে কাউকে ধরতে পারলে বেঁধে রাখার কথাও বলেন বিধায়ক। একইসঙ্গে তিনি জানান, মেমারি শহরকে পরিষ্কার রাখতে চান এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে কারা টাকা তুলছে, তা জানতে চান।
পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের বার্তা এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মানব গুহ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের ব্যবস্থা বদলানো প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল, স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে টাকা আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা। বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ কোনও ধরনের আর্থিক দাবি করলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
দোকানদারদেরও পরামর্শ
তোলাবাজির প্রসঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভূমিকাও তুলে ধরেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে দোকানদার বা ব্যবসায়ীরা নিজেদের কাজ দ্রুত করিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় নেতাদের টাকা দেন। এর ফলে তোলাবাজির প্রবণতা বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুরসভা সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের টাকা না দিয়ে সরাসরি পুরসভায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মানব গুহ। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম মেনে পুরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া সম্ভব। রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে কাজ করাতে গেলে অনেক বেশি টাকা খরচ হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।
তাই কোনও কাজের জন্য নেতাদের হাতে টাকা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিধায়ক। তাঁর মতে, এতে একদিকে সাধারণ মানুষের খরচ কমবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে টাকা আদায়ের সুযোগও কমবে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মঞ্চ থেকে মেমারি শহরকে তোলাবাজিমুক্ত রাখার বার্তা দেন মানব গুহ। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধায়কের নাম ব্যবহার করে আর্থিক দাবি বা তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এলে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর থাকবে।