নিউজ ডেস্ক: ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ কিংবা পুরোনো আলমারির ন্যাপথলিনের ঘ্রাণ এমন অনেক চেনা গন্ধ হঠাৎ করেই আমাদের অতীতে, বিশেষ করে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অতীত-যাত্রাকে বলা হয় ‘প্রুস্ত ফেনোমেনন’ বা প্রুস্ত প্রভাব। ফরাসি লেখক মার্সেল প্রুস্তের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম থেকে এই নামটির উৎপত্তি।
২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাইমন চু ও জন জে. ডাউনস প্রমাণ করেন যে, অন্যান্য যেকোনো ইন্দ্রিয়ের তুলনায় গন্ধ অতীত স্মৃতি ও আবেগকে জাগিয়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর। সাধারণ দৃশ্য বা অভিজ্ঞতার চেয়ে গন্ধের মাধ্যমে মনে পড়া স্মৃতিগুলো অত্যন্ত তীব্র ও নির্দিষ্ট হয় এবং এর বেশিরভাগই শৈশবের প্রথম ১০ বছরের অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত।
মস্তিষ্কে যা ঘটে: আমরা যখন কোনো গন্ধ পাই, নাকের ঘ্রাণগ্রাহক কোষগুলো সেই রাসায়নিক সংকেত সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ‘অ্যামিগডালা’ এবং স্মৃতির অংশ ‘হিপোক্যাম্পাস’-এ পাঠায়।
২০০৪ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী র্যাচেল হার্জের গবেষণায় দেখা যায়, দৃষ্টিভ্রম বা অন্য কোনো অনুভূতির চেয়ে ঘ্রাণ মস্তিষ্ককে স্মৃতির গভীরে দ্রুত পৌঁছে দেয়। ফলে পুরোনো ছবি দেখলে শুধু মনে পড়ে, কিন্তু পুরোনো গন্ধ নাকে এলে মানুষ যেন কল্পনায় সরাসরি সেই সময়ে ফিরে যায়—যাকে গবেষকরা বলেন 'Being Brought Back in Time'। তবে গন্ধ নিজে কোনো জাদুর কাঠি নয়; ব্যক্তির আবেগের ওপর ভিত্তি করে এর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়। কারও কাছে কারওয়ান বাজারের কাদার গন্ধ নানাবাড়ির কথা মনে করায়, আবার কারও কাছে নতুন বইয়ের গন্ধ বা আতরের ঘ্রাণ শৈশবকে উন্মোচিত করে। জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতাগুলো নতুন ও তীব্র হওয়ায় এই স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকে।
২০০৮ সালে গবেষক কোহসুকে ইয়ামামোতোর গবেষণায় উঠে আসে, গন্ধের মাধ্যমে জেগে ওঠা অনুভূতিগুলো অত্যন্ত আবেগঘন হলেও মস্তিষ্ক প্রতিটি স্মৃতির সাথে কিছুটা কাল্পনিক উজ্জ্বলতা যোগ করে। সংক্ষেপে, পুরোনো গন্ধ আমাদের ব্যস্ত বর্তমানের মাঝে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের সেই নিজেকে নতুন করে ছোঁয়ার একটি বন্ধ দরজা খুলে দেয়।