নিউজ ডেস্ক: কৃষিকাজ মানেই শুধু পুরুষদের পেশা এই ধারণা বদলে দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের বহু মহিলা। লখিমপুর খেরি জেলার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা পুনম তারই উদাহরণ। প্রায় ২.৫ একর জমিতে ‘কাটিলা পটল’ চাষ করে বর্তমানে ভালো দাম পাচ্ছেন তিনি। বাজারে এই সবজির প্রতি কেজির দাম উঠছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
বর্ষার মরশুমে অনেক প্রচলিত ফসলের চাষে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সময় সবজি চাষ অনেক কৃষকের কাছে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করে। লখিমপুর খেরির বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় মহিলারাও এবার সেই পথেই এগোচ্ছেন। নিজেদের জমিতে সবজি ফলিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে নিজেদের পরিচিতিও তৈরি করছেন তাঁরা।
রবীন্দ্রনগরের পুনমও দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এবার তিনি প্রায় আড়াই একর জমিতে কাটিলা পটলের চাষ করেছেন। এই কাজে পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে সাহায্য করছেন। জমিতে উৎপাদিত পটল শুধু স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে না, পৌঁছে যাচ্ছে কানপুর, দিল্লি-সহ একাধিক বড় শহরের বাজারেও।
পুনমের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাটিলা পটলের বাজারদর বেশ ভালো। প্রতি কেজি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন তিনি। বাজারদর যদি একইভাবে বজায় থাকে, তাহলে এই চাষ থেকে ভবিষ্যতে আরও ভালো আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।বর্ষার সময়ে সাধারণত সবুজ শাকসবজির চাহিদা বেড়ে যায়। তাজা সবজির বাজারও সক্রিয় থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই অনেক কৃষক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কাটিলা পটলও সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
সবজি চাষের আরও একটি সুবিধা হল, অন্যান্য কিছু ফসলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত উৎপাদন পাওয়া যেতে পারে। অবশ্য ফলন কতটা হবে, তা নির্ভর করে আবহাওয়া, জমির পরিস্থিতি, পরিচর্যা এবং বাজারের চাহিদার উপর। অনুকূল পরিবেশ থাকলে কৃষকরা তুলনামূলক দ্রুত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে পারেন।
পুনমের মতো মহিলা কৃষকদের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় জমিতে চাষ করা থেকে শুরু করে ফসল বাজারে পৌঁছে দেওয়া পুরো প্রক্রিয়াতেই মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এর ফলে কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে তাঁদের নিজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
লখিমপুর খেরির এই উদাহরণ তাই শুধু একটি সবজি চাষের গল্প নয়। কৃষিক্ষেত্রে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের ছবিটিও সামনে আনছে। আড়াই একর জমিতে কাটিলা পটল চাষ করে ভালো বাজারদর পাওয়া পুনম এখন অন্য মহিলাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। আগামী দিনে বাজারে এই সবজির দাম এবং চাহিদা কেমন থাকে, তার উপরই নির্ভর করবে এই চাষ আরও কতটা লাভজনক হয়ে ওঠে।