নিউজ ডেস্ক: দেশে শুরু হয়েছে চিতা ফেরানোর উদ্যোগ। যার পোশাকি নাম, 'প্রোজেক্ট চিতা'। এ বার সেই প্রকল্প ছুঁয়ে ফেলল এক নয়া মাইলফলক। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে একসঙ্গে চারটি শাবকের জন্ম দিল ভারতেই জন্ম নেওয়া এক স্ত্রী চিতা। KGP12 নাম দেওয়া হয়েছে যেটিকে। উল্লেখ্য, চিতা ফেরানোর প্রকল্পটি ৪ বছর পূর্ণ করার ঠিক এক দিন পরেই এল এই সুখবর। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক তথা আনন্দের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও। সমাজ মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ৪ বছরে চারটি নতুন প্রাণ ভারতের চিতা সংরক্ষণে আশা, সহনশীলতা এবং সাফল্যের প্রতীক। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা সকলকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে ভারতে চিতা অন্যতম বিলুপ্তপ্রায় একটি প্রাণি। সে কারণেই শুরু হয়েছিল 'প্রোজেক্ট চিতা'। ৪ বছরের সরকারি পর্যালোচনা অনুযায়ী, ভারতে এই মুহূর্তে মোট ৫২টি চিতা রয়েছে। তার মধ্যে ৩২টিরই জন্ম এ দেশের মাটিতে। কুনো জাতীয় উদ্যানে রয়েছে মোট ৪৯টি চিতা। আর তিনটি রাখা হয়েছে গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে। ‘ফোর ইয়ার্স অব চিতাজ ইন ইন্ডিয়া এ স্ট্যাটাস রিভিউ’ শীর্ষক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চিতাদের নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বতসোয়ানা থেকেও নতুন চিতা আনা হয়েছে ভারতে। যদিও গত ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নামিবিয়া থেকে নিয়ে আসা ৮টি চিতার মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনটিই বেঁচে রয়েছে। তবে সেগুলি এত দ্রুত বংশবিস্তার করেছিল যে এই বিশেষ শ্রেণির চিতার সংখ্যা এই মুহূর্তে ২৫টি।
অন্যদিকে, গত ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানিকৃত ১২টি চিতার মধ্যে ৮টি বর্তমানে জীবিত। তাদের ভারতীয় সন্তান-সহ মোট সংখ্যা ১৮। এ ছাড়া চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বতসোয়ানা থেকে আরও ন’টি চিতা আনা হয় এ দেশে। এ দিকে কুনোয় থাকা ৪৯টি চিতার মধ্যে ১৭টিকে ইতিমধ্যেই জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০টি পুরুষ এবং ৭টি স্ত্রী চিতা। বাকি ৩২টি রয়েছে ‘সফট রিলিজ বোমা’-য়। তাদের মধ্যে ৫টি পুরুষ, ৮টি স্ত্রী এবং এক বছরেরও কম বয়সি মোট ১৯টি শাবক রয়েছে।
৪ বছরের এই যাত্রাপথকে কয়েকটি আলাদা আলাদা পর্যায়ে ভাগ করেছে কুনো কর্তৃপক্ষ। প্রথম বছরে ছিল নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন রকম বাধা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর পর্ব। দ্বিতীয় বছরে সাফল্য আসে প্রজননের ক্ষেত্রে, এবং এক বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকে মোট ১৩টি শাবক। তৃতীয় বছরে চিতাদের জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে শুরু হয় নজরদারি। মোট ১২টি জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় তারা নিজেদের মতো করে চলাফেরা ও টিকে থাকার সামর্থ্য দেখিয়েছে। সব শেষে চতুর্থ বছরকে এখন ‘প্রতিষ্ঠার পর্ব’ হিসেবেই দেখছে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ বিদেশ থেকে আনা চিতাদের শুধু বাঁচিয়ে রাখাই নয়, ভারতে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকে জঙ্গলে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। KGP12-এর ৪ শাবকের জন্ম সেই পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।