কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে আচমকাই নতুন সমীকরণ। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম থেকে মমতা-সমর্থিত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে সরে দাঁড়ান। ফলে উপনির্বাচনের সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা দেয়।
রাহুলের ফোনের পরেই কি বদলাল সমীকরণ?
মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণার আগে শুক্রবার সকালে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন রাহুল। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু একটি দলের লড়াই নয়, বরং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক দল ও ভোটারদেরও বিষয়।
এরপরই মমতার সঙ্গে রাহুলের ফোনালাপ এবং বিকেলে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
মমতা বলেন, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থীকে ভালো মনে হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মমতা।
‘রাহুলকে জানতে দিইনি, এটা সারপ্রাইজ’
কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত রাহুল গান্ধী আগে থেকে জানতেন কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, রাহুল তাঁকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্তের কথা তিনি আগে থেকে জানাননি। মমতার কথায়, বিষয়টি ছিল দলের সিদ্ধান্ত এবং রাহুলের কাছে সেটি ছিল ‘সারপ্রাইজ’।
অন্যদিকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি দিনটিকে ‘ব্ল্যাক ডে’ এবং ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন। কমিশনের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক, পক্ষপাতদুষ্ট ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন, তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
কী বললেন অধীর?
মমতার সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে মমতা যে প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিলেন, তিনি ময়দান ছেড়ে সরে গিয়েছেন। এরপর কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত মমতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেই মন্তব্য করেন অধীর। নন্দীগ্রামের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এই সমীকরণ উপনির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




