স্পোর্টস ডেস্ক: তিনি একবার শুরু করলে তাঁকে থামানোর সাধ্য কারও নেই। ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংই তাঁর একমাত্র পরিচয়। কিন্তু সেই অভিষেক শর্মাকেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার আগে নিজের আগ্রাসী মানসিকতায় খানিকটা লাগাম টানার পরামর্শ দিয়েছিলেন গুরু যুবরাজ সিং। ম্যাচ শেষে অভিষেক জানিয়েছেন, সেই পরামর্শই যেন তাঁকে আরও আগ্রাসী করে তুলেছে। যার ফল ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার শুরু থেকেই আফগান বোলিংকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন অভিষেক। ৯ টি বাউন্ডারি এবং ১১টি সুবিশাল ছক্কায় মাত্র ৩০ বলেই তিন অঙ্কে পৌঁছে গড়ে ফেলেন টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতরানের রেকর্ড। ভেঙে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা এবং নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের ৩৩ বলে শতরানের রেকর্ড। এর পর স্বাভাবিকভাবেই আর কারো হাতে ম্যাচের সেরার পুরস্কার তুলে দেওয়া সম্ভব ছিল না।
তবে এই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব অভিষেক একা নেননি। দিয়েছেন গুরু তথা পরামর্শদাতা যুবরাজকেও। ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুবির সেই পরামর্শের কথা নিজেই জানিয়েছেন তাঁর ছাত্র। দ্বিতীয় ম্যাচের পর যুবরাজের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয়েছিল। অভিষেক বলেন, যুবরাজ তাঁকে পরিষ্কার ভাষায় বুঝিয়েছিলেন, সব বলেই বড় শট খেলার প্রয়োজন নেই। ব্যাট করতে হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী। সেই পরামর্শ যে তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল, তা বোঝা গিয়েছে বৃহস্পতি-সন্ধ্যায়ই। আগ্রাসন এতটুকু কমেনি। শুধু সঙ্গে যোগ হয়েছিল বল বাছাইয়ের পরিকল্পনা।
এ দিকে অভিষেকের বাবার মতে, ছেলের জীবনে ধ্যান এবং ক্রিকেট, দুই-ই এখন অবিচ্ছেদ্য। ছেলের এই সাফল্যের পিছনে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি ধ্যানেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবা রাজকুমার। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, অভিষেক নিয়মিত ধ্যান করেন। এমনকি ভোর চারটেয় উঠে মেডিটেশনও করেন। তাঁর কথায়, ক্রিকেটের মাঠ একটি গুরুদ্বারার মতো। যে তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে, সে ফল পায়। অভিষেকের মানসিক প্রস্তুতি যে কতটা গভীর, সেটাও বোঝা গিয়েছে বাবার কথাতেই।




