নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে খবর। ঘটনাটি সামনে আসে এমন এক সময়ে, যখন নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তবে গ্রেফতারের আইনি কারণ এবং মামলার বিস্তারিত বিষয়ে পুলিশের তরফে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মিলন প্রধান। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে কংগ্রেস। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
শুক্রবার নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর শিবির আর নতুন প্রার্থী দেবে না। পরিবর্তে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করা হবে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারের খবর সামনে আসে। পুলিশের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিল এবং তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁকে হলদিয়া আদালতে হাজির করানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে বিরোধী প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, পুলিশ তার কাজ করছে এবং গ্রেফতারির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে ঘিরে এখন কার্যত মুখোমুখি দুই রাজনৈতিক বয়ান।
নন্দীগ্রামে এমনিতেই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ তুঙ্গে। কংগ্রেস, বিজেপি, বাম এবং তৃণমূলের বিভিন্ন শিবির নিজেদের প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণার পর সেই সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারের খবর নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রকৃতি, গ্রেফতারির নির্দিষ্ট ধারাগুলি এবং আদালতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের সরকারি বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টির সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এখন নজর থাকবে আদালতের শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যের দিকে।