দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: প্রথমে বোঝা যায়নি কি ঘটছে। দুপুরের ব্যস্ত সময় হঠাৎ-ই যেন বদলে গেল পঞ্চায়েত অফিসের চেনা ছবি। আচমকাই শুরু হল ছোটাছুটি। কোথাও ধস্তাধস্তি, কোথাও টানাহেঁচড়ার দৃশ্য। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেও সেখানে চলছিল একটি স্বাভাবিক সভা। পরে, সামনে আসে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেই ফুটেজকে ঘিরেই এখন উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। ঘটনার নেপথ্যে কি ছিল, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের এক মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যাকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর থেকে ওই মহিলাকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও, ফুটেজের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ঘটনায় প্রত্যক্ষের ভূমিকা তদন্ত সাপেক্ষ। তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের অফিসে একটি সাধারণ সভা আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি, দুই পঞ্চায়েত কর্মীর বিদায় সম্ভাষণ অনুষ্ঠানও ছিল। এই সভার শেষ হওয়ার পর পঞ্চায়েত সদস্য শুসেন জানা অফিসের বাইরে বেরিয়ে আসেন। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং সভাতে কেন এসেছিলেন এই প্রশ্ন করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে বাইরে বেরিয়ে আসেন মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যা দেবদত্তা সামন্ত। তৃণমূলের দাবি, এরপর তাঁর উপরও হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি পঞ্চায়েত অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, এরপর সেখান থেকে তাঁকে টেনে বাইরে নিয়ে আসা হয় এবং প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়। এই ঘটনার পর পাথরপ্রতিমা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
যদিও, তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বিজেপি কর্মী বা কর্মী সমর্থক জড়িত নন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, ওই মহিলা নেত্রী-সহ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কাঠমানি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি বিজেপির। তবে, অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিসিটিভি ফুটেজ। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।