কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় মোড়। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী কোনও পক্ষই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম এবং নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীকের জন্য তিনটি করে পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের বিরোধ। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে আপাতত উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কালীঘাট শিবিরের আপত্তির কথাও সামনে এসেছে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালতে যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।উপনির্বাচনের সময়সীমাও এই সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে দুই গোষ্ঠীকেই এবার নতুন নাম ও প্রতীকে ভোটের মাঠে নামতে হবে।
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। রেজিনগর আসনও আলাদা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শূন্য হয়। এই দুই আসনের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত তাই নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলীয় নাম, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। ফলে এখন নজর শুক্রবারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দুই শিবিরের বেছে নেওয়া বিকল্প নাম ও প্রতীকের দিকে।