কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূলের কোনও পক্ষই আপাতত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। পাশাপাশি ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বার্তা দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন ঋতব্রত। শুনানি নিয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, দলীয় প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। কমিশনের পক্ষ থেকে করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এরপর রাতে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। তাতে কোনও পক্ষকেই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম এবং কমিশনের তালিকায় থাকা মুক্ত প্রতীকের মধ্যে থেকে পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলের মালিকানা ব্যক্তিগতভাবে কারও হাতে থাকতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দল কখনও ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ হতে পারে না। তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ফের শুনানির সুযোগ থাকবে এবং তাঁদের পক্ষ থেকে নতুন নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানানো হবে।
তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর আরও একটি বার্তা সামনে আসে। মধ্যরাতে এক্স-এ পোস্ট করে ঋতব্রত লেখেন, “রাজনীতি এক চিরন্তন যুদ্ধ। প্রত্যেক ঘণ্টায়, প্রত্যেক মিনিটে, প্রত্যেক সেকেন্ডের যুদ্ধ।” তাঁর বক্তব্য, এই রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যেই স্বার্থ, প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। পোস্টের শেষাংশে ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের আদর্শ ও মূল্যবোধের দীর্ঘজীবন কামনা করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন সামনে থাকায় কমিশনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দুই পক্ষকেই দ্রুত নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে পরবর্তী আইনি বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে। ফলে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া আসন্ন উপনির্বাচনের লড়াইয়ে দুই শিবির কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে মাঠে নামে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। একইসঙ্গে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক বিরোধ কোন দিকে যায়, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল।