কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত দুই গোষ্ঠীকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই তৃণমূলকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়েই তাঁর কোনও ভাবনা নেই। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় একসময় জারি হওয়া একটি ‘ফতোয়া’র প্রসঙ্গও।
শমীক বলেন, “এটা ওপরওয়ালার বিচার। সিঁদুর-আলতায় পদ্ম ফুলের ছবি থাকলে, সেটা বিক্রি করা যাবে না এমনই ফতোয়া জারি করা হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায়।” তাঁর দাবি, বারাকপুর এলাকাতেও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এরপরই তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দলের প্রতীক থাকল কি গেল, তা নিয়ে কারও বিশেষ মাথাব্যথা নেই।
তবে শমীকের এই রাজনৈতিক মন্তব্যের পাশাপাশি এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, আসন্ন উপনির্বাচনে কোনও পক্ষই আপাতত পুরনো দলীয় নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই গোষ্ঠীই ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশন দুই পক্ষকেই বিকল্প তিনটি করে দলীয় নাম এবং প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলেছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর তরফে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-সহ একাধিক নামের প্রস্তাব দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রতীক হিসেবে ‘খাম’, ‘টর্চ’ এবং ‘ব্ল্যাকবোর্ড’-এর মতো বিকল্পও চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব নিয়েও জল্পনা রয়েছে। দুই পক্ষের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে কমিশন উপনির্বাচনের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করবে।
এদিকে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলের বৈধ নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই প্রতীক-দ্বন্দ্ব কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।