নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে আপাতত কোনও পক্ষই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রাহুল গান্ধী জানান, তাঁর মতে এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয়। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান এমন রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের বিষয় হিসেবেই তিনি ঘটনাটিকে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্যে উঠে আসে শিবসেনা এবং এনসিপির দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিরোধী দলের ক্ষেত্রে দল ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় যদি এভাবে বদলে যেতে পারে, তাহলে ভোটাধিকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তবে রাহুল গান্ধীর এই অবস্থানকে কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
এদিকে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। সেই বিরোধের নিষ্পত্তি চূড়ান্তভাবে না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়ার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই পক্ষকেই বিকল্প তিনটি করে দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অনুমোদনের পর দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে আরও কয়েকটি বিরোধী দল। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরীবালও কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ প্রতীক-বিতর্ক এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গের দলীয় সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় রাজনীতিতেও তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে প্রকৃত দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। তাই আপাতত উপনির্বাচনকে সামনে রেখে পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটের আগে তৃণমূলের দুই শিবির কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে মাঠে নামে, আর এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কীভাবে হয় সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।