নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিন ধরে চলছিল অপেক্ষা। সামনে ছিল জমে থাকা জল, কাদা, পাথর আর ধ্বংসস্তূপে বন্ধ হয়ে যাওয়া এক সুড়ঙ্গ। প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল নিত্যনতুন বাধা। তবুও থামেনি উদ্ধারকারীদের অভিযান। সুড়ঙ্গের গভীরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল প্রত্যাশাও। আশা ছিল, হয়তো অন্ধকারের ওপারে এখনও অপেক্ষা করছে কোনও প্রাণের চিহ্ন। শেষ পর্যন্ত দল পৌঁছল সেই জায়গায় যেখানে চলছিল আটকে থাকা মানুষদের সন্ধান। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করছিল এক কঠিন বাস্তবতা।
নেপালের রাসুয়া জেলার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে অভিযানে নেমে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্ধারকারী দল। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে জানানো হয়। সূত্রে খবর, সুড়ঙ্গ থেকে কাদা এবং বরফ গলা জল সরানোর জন্য কয়েক দিন ধরে অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজ চালানোর পর ভারতীয় ও নেপালি উদ্ধারকারী দল বুধবার সকালে পাওয়ারহাউসে পৌঁছতে সক্ষম হয়। কিন্তু, সেখানে কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত দলগুলির পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।
গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকেই চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মীদের আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ভোটেকোশি নদী সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ধসের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সুড়ঙ্গের প্রবেশ পথের জমে যায় বিপুল পরিমাণ কাঁদা ,পাথর ও ধ্বংসাবশেষ। ফলে, ভিতরে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এই উদ্ধার অভিযানে ভারতীয় সেনা ও নেপালি সেনার সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। ভারী যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পাশাপাশি কাদা জল নিষ্কাশন এবং দুর্গম অংশে পৌঁছনোর জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অভিযানটির প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা বিশাল পাথর, কাদাজল উদ্ধারকারীদের গতি বারবার আটকে দেয়। অবশেষে পাওয়ার হাউস পর্যন্ত পৌঁছনো সম্ভব হয়।
তবে, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছলেও জীবিত কারও হদিস মেলেনি। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচজনের মৃতদেহ। প্রাথমিকভাবে ৬ জন কর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। ফলে, একজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানা গিয়েছে। ভয়াবহ বন্যার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযান শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দিক থেকে নয়, মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত কঠিন। নিখোঁজদের পরিবারগুলির অপেক্ষা ছিল একটি আশার আলোর জন্য। কিন্তু, শেষমেষ সেই অপেক্ষার পরিণতি হল অত্যন্ত করুন। উদ্ধারকারীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সুড়ঙ্গের গভীরে পৌঁছনো সম্ভব হলেও জীবনের হদিস আর মেলেনি।