সুন্দরবন, নিউজ ডেস্ক: পুকুরের জল তখন শান্ত। হঠাৎ জলের ওপর ভেসে উঠল অস্বাভাবিক কিছু। ঢেউ নেই, শব্দ নেই তবুও জলের নিচে যেন কিছু একটা নড়ছে। একবার দেখা গেল আবার মিলিয়ে গেল জলের নিচে। প্রথমে কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেলেন না। দূর থেকে দাঁড়িয়ে কেউ নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ঠিক কি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সন্দেহ বদলে গেল আতঙ্কে। খবর ছড়াতেই পুকুর পাড়ে জমল মানুষের ভিড়। শেষ পর্যন্ত সেই সমস্যার সমাধান করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হল বন দফতরের উদ্ধারকারী দলকে।
দেখুন: https://x.com/jazzbaatbangla/status/2100536119477817558?s=20
সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলীতে ফের দেখা দিল কুমিরের আতঙ্ক। মৈপিঠ কোস্টাল থানার রবিবারের বাজার এলাকার সিনি অফিস সংলগ্ন উত্তর বৈকুণ্ঠপুরে এক গৃহস্থের পুকুরে দেখা মিলল বিশালাকার একটি কুমিরের। পুকুরের জলে কুমিরটিকে ভাসতে দেখেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। জানা গিয়েছে উত্তর বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা আনন্দ ময়রার পুকুরে গতকাল পরিবারের সদস্যরা প্রথম কুমিরটিকে দেখতে পান। আচমকা পুকুরের জলে বিশালাকার কুমির দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে।
পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সেজন্য খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দফতরের কর্মীরা। সঙ্গে ছিল কুলতলির কুইক রেসপন্স টিম এবং মৈপিঠ কোস্টাল থানার পুলিশ। পরিস্থিতি যাতে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য পুকুরের চারপাশ ফিরে ফেলা হয়। পুকুরটি ঘিরে ফেলে শুরু করা হয় কুমির উদ্ধারের প্রস্তুতি। স্থানীয়দের পুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষমেষ দীর্ঘক্ষণ নজরদারি ও অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার সকালে সফল হয় উদ্ধার অভিযান। পুকুর থেকে নিরাপদে তুলে আনা হয় এই বিশাল আকার সরীসৃপটিকে। কুমির ধরা পড়তেই আতঙ্কের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার করা কুমিরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করার পর সেটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নদী, খাল ও জলাশয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনজীবন নিবিড় ভাবে জড়িত। সেই কারণে লোকালয়ের কাছাকাছি কুমির চলে আসার ঘটনা একেবারে অস্বাভাবিক নয়। তবে, গৃহস্থের পুকুরে এমন বিশালাকার কুমিরের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জলাশয়ের আশেপাশে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন বনকর্মীরা।