নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে সদ্যই শেষ হয়েছে ১৮ তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার পরই সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি। ব্রিকসের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। এমনকি জিনপিং বৈঠকের মাঝেই জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং পরে তাঁকে বেজিংয়ের ৩০১ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। তবে এই সমস্ত দাবিকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে স্পষ্ট করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্টচেক ইউনিট।
চিনের প্রেসিডেন্টের অসুস্থতার দাবি ছড়ানোর নেপথ্যে রয়েছেন চিনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় জিনপিং জ্ঞান হারান এবং পরে গুরুতর ইস্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। কিন্তু তাঁর এই দাবির সপক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট কিংবা প্রমাণ সামনে আসেনি এখনও। উল্টে পোস্টটিতে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এক্স-এর কমিউনিটি নোটও। যেখানে দাবিটিকে বাস্তবের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছিলেন জিনপিং।
তবে রামাফোসার ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা আলাদা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, ৭৩ বছরের রামাফোসা অসুস্থতার কারণে আপাতত সরকারি কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে বিশ্রাম ও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে গিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর পরিবর্তে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা প্রতিনিধিত্ব করবেন। অর্থাৎ রামাফোসার অসুস্থ থাকার খবরটি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি সূত্রেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই রামাফোসা এবং জিনপিংকে একই সূত্রে জুড়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তাকে সম্পূর্ণ ভুয়ো দাবি করে নেটাগরিকদের সতর্ক করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের ফ্যাক্টচেক ইউনিটের বক্তব্য, সমাজ মাধ্যমে ছড়ানো এই ধরনের পোস্ট বিভ্রান্তিকর। ফলে জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো দাবির কোনও বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি এখনও মেলেনি। অন্য দিকে রামাফোসার বিশ্রামে থাকার বিষয়টি তাঁর দেশের প্রেসিডেন্সির তরফেই জানানো হয়েছে।