নয়াদিল্লি: ইউপিআই লেনদেনে নতুন করে মাশুল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের অবস্থানকে সমর্থন করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তবে তাঁর বক্তব্য, এই খরচের বোঝা যেন সাধারণ গ্রাহকদের উপর কোনওভাবেই না পড়ে। ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো তৈরি ও তা সচল রাখার পিছনে যে খরচ রয়েছে, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা MDR চালু হওয়ার কথা। ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে এই মাশুল ধার্য হওয়ার কথা রয়েছে। এই খরচ ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীর উপর প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও মাশুল থাকছে না। একইভাবে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনও নতুন MDR-এর আওতায় পড়বে না বলে জানানো হয়েছে।
এই বিষয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, প্রত্যেক ইউপিআই ব্যবহারকারীকে এই মাশুল দিতে হবে না। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
ওমরের যুক্তি, ইউপিআই ব্যবস্থা পরিচালনা এবং তার পরিকাঠামো বজায় রাখতে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হয়। দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষ এই পরিষেবা বিনামূল্যে ব্যবহার করলেও, তার পিছনে থাকা পরিকাঠামোগত খরচের বিষয়টিও বোঝা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি সুবিধা পান। তাই নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপর মাশুল বসানো নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই।
তবে একইসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের উপর ধার্য করা এই মাশুল কোনওভাবেই যেন সাধারণ ক্রেতার উপর চাপানো না হয়। অর্থাৎ দোকান বা পরিষেবা নেওয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্রাহককে সেই খরচ বহন করতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
ইউপিআইয়ের নতুন MDR কাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এটিকে ‘ইউপিআই ট্যাক্স’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ব্যবসায়ীদের উপর মাশুল চাপানো হলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়তে পারে।
কেন্দ্র অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের উপর ধার্য MDR গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। ব্যাঙ্কগুলিকেও এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ইউপিআই অ্যাপ সরবরাহকারী সংস্থাগুলি আলাদা করে কোনও প্ল্যাটফর্ম ফি বা গোপন মাশুল নিতে পারবে না। কেন্দ্রের বক্তব্য, নতুন কাঠামোর উদ্দেশ্য হল দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা।
ফলে ইউপিআইয়ের নতুন মাশুল কাঠামো নিয়ে বিতর্কে একদিকে কেন্দ্রের যুক্তি, অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা দুই অবস্থানই সামনে এসেছে। এর মধ্যেই ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মাশুলের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এলেও, সাধারণ গ্রাহককে এর বাইরে রাখার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে।