নয়াদিল্লি: ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর এই প্রথম আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে চলেছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দিল্লিতে হতে চলা এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য কিছু বিষয় সামনে এসেছে।
শেখ হাসিনা গত দু’বছর ধরে একাধিক দলীয় বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন। বুধবারও দিনাজপুর-২ সংসদীয় এলাকার নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তিনি। তবে শুক্রবারের বৈঠকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এবার তিনি সশরীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে উপস্থিত থাকবেন।
দলের কয়েকজন নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য কৌশল এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে দল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দেশে ফেরার পর কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে সাংগঠনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়েও নেতাদের মতামত নেওয়া হতে পারে বলে খবর।
এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লিগের গঠনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাও আলোচনায় এসেছে। শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সভাপতি কোনও কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে দলের সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর প্রবীণতম সদস্য অস্থায়ীভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সবচেয়ে প্রবীণ হওয়ায় তাঁর নামও আলোচনায় এসেছে।
তবে দলের গঠনতন্ত্রের ২৫(১)(ক) ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিষয়টি এতটা সরল নয়। সেখানে বলা হয়েছে, সভাপতি তাঁর অনুপস্থিতির সময়ে সভাপতিমণ্ডলীর যে কোনও সদস্যকে সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্ব দিতে পারেন। ফলে শুধু প্রবীণতম সদস্য হওয়াই অস্থায়ী সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সভাপতির ক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ সেলিমকে নিয়ে দলের ভিতরে মতভেদের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বা রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। শেখ সেলিম নিজে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
শুক্রবারের বৈঠকে শুধু সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরাই থাকবেন না বলেও জানা যাচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বাইরে থাকা কয়েকজন নেতাকেও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নামও রয়েছে আমন্ত্রিতদের তালিকায়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফও বৈঠকে ডাক পেয়েছেন।
এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বৈঠকে থাকছেন না বলে জানা যাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হতে পারছেন না। তবুও তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চুয়াল দলীয় বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।
আওয়ামী লিগের নেতাদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য ধরে রাখাই শেখ হাসিনার অন্যতম অগ্রাধিকার। সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাউন্সিল বা জাতীয় অধিবেশন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে শুক্রবারের দিল্লি বৈঠককে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন শেখ হাসিনা দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কী সিদ্ধান্তের দিকে এগোবেন? একক নেতৃত্ব, অস্থায়ী দায়িত্ব নাকি যৌথভাবে দল পরিচালনা কোন পথে আলোচনা গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের।