রায়দিঘি, নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যা নামার আগে হঠাৎ যেন অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলাকায়। নদীর দিকে তাকিয়ে তখন স্থানীয়দের চোখে-মুখে আতঙ্ক। পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় শুরু হলো দৌড়ঝাপ। গ্রামের দিকে জলের স্রোত এগিয়ে আসার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের তৎপরতায় শুরু হল যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। রাত পেরোতেই কিছুটা স্বস্তির ছবি দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল প্রায় চারটা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির নন্দকুমারপুর পঞ্চায়েতের মোহাব্বত নগর, কৈলাসপুর এবং হরিণটানা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নাকচোড়া নদীর মাটির বাঁধের কিছু অংশ ভাঙ্গন দেখা যায়। নদীর তীব্র জলে স্রোতে বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
তবে, জলের স্রোত গ্রামে ঢোকার আগেই প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাঁধ ভাঙনের সময় জলে স্রোতে দুটি বৈদ্যুতিক পোস্টও ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায় এলাকা। একদিকে নদীর জল, অন্যদিকে বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিপর্যয়, দুই সমস্যার মধ্যে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মথুরাপুর-২ ব্লক প্রশাসন এবং সেচ দফতরের কর্মীরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত শুরু হয় জরুরি বাঁধ মেরামতের কাজ। জেসিবি দিয়ে বাঁধের দুর্বল অংশে মাটি ফেলে ভাঙ্গন আটকানোর চেষ্টা করা হয়। রাতভর চলে মেরামতের কাজ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আজ সকালের মধ্যেই মেরামতির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। বাঁধ দিয়ে জল বেরোনোও বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বৈদ্যুতিক পোস্ট মেরামতির কাজও চলছে।
তবে, স্থানীয়দের কথায় এলাকায় নদী ভাঙনের আশঙ্কা নতুন নয়। তাঁদের দাবি, প্রায় ৬-৭ বছর আগে এখানে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ফুট বাঁধের অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল। পরে, সেখানে তৈরি করা হয় আইলা বাঁধ। এবার সেই বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট দূরে ফের ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, আপাতত মাটি দিয়ে বাঁধ রক্ষা করা গেলেও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, কংক্রিটের বাঁধ তৈরি না হলে ভবিষ্যতে নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বিপদ কিছুটা এড়ানো গেলেও নদীর পাড়ের মানুষের উদ্বেগ এখনও কমেনি।