নিউজ ডেস্ক: নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সময়ের সাথে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা 'বহুরূপী'র সুবাদে ফিরিয়ে এনেছিলেন বাংলার এই অঞ্চলিক শিল্প। ননিচোরা দাস বাউলের গাওয়া 'ময়দামুখো' গানটি বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল বিদেশের মাটিতেও। বছর দুয়েক বাদে এবার সেই ননীকে নিয়েই সিক্যুয়েলের আইটেম গানে চমক দিলেন শিবপ্রসাদ। তবে এবার আর ছ্যাঁচড়াপুরের বিক্রম 'ময়দামুখো' নন, বরং 'ঝিমলি' কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের। প্রেমে সে হয়ে উঠেছে 'সোনামুখো'। তাই ননীচোরা দাস বাউল গেয়ে উঠলেন, 'কই গো হ্যান্ডেলের মা প্যান্ডেল, চলে যাব ব্যান্ডেল। তাকাইছে সোনামুখো, পটলের মতো চোখ নিয়ে তাকাইছে...।'
বুধবার মুক্তি পেয়েছে 'বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু'র আইটেম গান 'ময়দামুখো হিট'। বিয়ের আসরের প্রেক্ষাপটে যে গানের দৃশ্যায়ণে শিবপ্রসাদ-কৌশানীর রোম্যান্স জমে ক্ষীর। গানের লিরিকসে এবারও ছন্দে-ছন্দে রসিক শব্দবাজিতে পেটে খিল ধরিয়েছেন ননিচোরা দাস বাউল। সঙ্গে অবশ্য সঙ্গ দিয়েছেন রীতম সেন। এবার 'সোনামুখো'র দাবি, 'বিয়ের আগে ছিলাম হিরো নম্বর ওয়ান, এখন বিয়ের পর কুলি নম্বর ওয়ান...।' শুধু কি তাই? 'তুই দেখতে বিউটিফুল, ফ্যামিলিম্যান কুল', বলে বিক্রমকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন 'ঝিমলি' কৌশানীও। তাহলেই বুঝুন! উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার হাত ধরে বঙ্গবাসী যে ফের একটা হিট আইটেম গান উপহার পেতে চলেছে, সেটা আন্দাজ করাই যায়।
গানের প্রথম দৃশ্যেই স্যুটেড-বুটেড শিবপ্রসাদকে দেখা গেল। শিবপ্রসাদ জানালেন, "আগের গানটা সুপারহিট, তাই এবারের গানটা নিয়ে সকলেই আরও বেশি আশাবাদী ছিলেন। আমরা হয়তো সেটা পূরণ করতে পেরেছি। সকাল থেকে বহু মানুষের শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছি। দর্শক-শ্রোতারা ভালোবেসে যেভাবে রিভিউ দিচ্ছেন, তাতে আমি আপ্লুত। সবাই বলছেন যে, গানটা খুবই ভালো লেগেছে। সেটা দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে। কিন্তু আগের গানটার থেকে এই 'ময়দামুখো হিট' গানটি সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা 'ডাকাতিয়া বাঁশি'র একটা ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু দুটোর প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। আগের গানটায় একটা মেলার সিকোয়েন্সে ছিল, আর এবারেরটা ছ্যাঁচড়াপুরের এক বিয়ের আসরে। সেটা মাথায় রেখেই গানের কথা-সুর এবং দৃশ্যায়ন ভাবা।" কৌশানীর কথায়, "ছাব্বিশ সালে দাঁড়িয়েও 'ডাকাতিয়া বাঁশি' ব্লকবাস্টার! তবে 'ময়দামুখো হিট'-এর সঙ্গে তুলনা টানলে চলবে না। ওটায় ঝিমলি-বিক্রমের প্রথম আলাপ হয়, আর এই গানে ওদের দাম্পত্য রসায়ন দেখানো হয়েছে। তাই দর্শকের জন্য নতুন চমক অপেক্ষা করছে।”
চব্বিশ সালের পুজোর বক্স অফিসে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে নাম লিখিয়েছিল নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বহুরূপী’। বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, এমনকী আন্তর্জাতিক স্তরে দর্শককুলের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিল ছ্যাঁচড়াপুরের ‘ছিচকে’ নয়, বরং ভালোবেসে ডাকাতি করা ‘বিক্রম’। দু’বছর পর আবারও পুজোর পর্দায় ‘বহুরূপী’দের টিম। এবারের ডাকাতি যে আরও বড় পরিসরে হবে, সেটা টিজারে যিশু-শিবপ্রসাদের দ্বৈরথ দেখেই বেশ বোঝা গিয়েছিল। আগামী ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে 'বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু'। পুজোর বক্স অফিস মহারণে এবার কোন খেল দেখায় ‘বহুরূপী’রা? নজর থাকবে সেদিকে।