নিউজ ডেস্ক: আকাশ পথে সবকিছু স্বাভাবিক চলছিল। যাত্রীরা নিজেদের মতো ছিলেন, বিমান এগিয়ে চলছিল গন্তব্যের দিকে। কিন্তু আচমকা শুরু হলো প্রবল ঝাঁকুনি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের ভিতরের পরিস্থিতি বদলে যায়। যাত্রীদের চোখে মুখে আতঙ্ক, চারপাশে চিৎকার। কিন্তু সামলে ওঠার আগেই মাথার উপরের অংশ থেকে এল তীব্র শব্দ। এরপর যা দেখা গেল, তাতে বিমানের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দেখুন: https://x.com/AirportHaber/status/2099865962581221661
ইরানের মাশহাদ থেকে কেরমানশাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল সেপেরহান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭। যাত্রাপথে তীব্র টার্বুলেন্সের মধ্যে বিমানের কেবিনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করা হয়। এই ভয়াবহ ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিমানের ভিতরের কেবিনের ছাদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। আচমকা এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমান চলাচলের সময় টার্বুলেন্সের কারণে ঝাঁকুনি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু, সেই তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যেই কেবিনের ছাদের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় যাত্রীদের আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক। বিমানের ভিতরের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর বিমানটি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে না গিয়ে মাশহাদে ফিরে আসা সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মাশহাদে ফিরে গিয়ে নিরাপদে অবতরণ করে। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে বিমানটি নিরাপদে মাটিতে ফিরতে সক্ষম হয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তীব্র টার্বুলেন্সের আঘাতেই বিমানের কেবিনের ছাদের অংশটি ধসে পড়েছিল কি না, তা নিশ্চিত ভাবে বলা হয়নি। বিমানটির ওই অংশে আগের থেকে কোনও সমস্যা ছিল কি না, রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনও কারণ এর পিছনে রয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিমানটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং উড়ানের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিমানটি নিরাপদে যাত্রীসহ অবতরণ করেছে। তবে, আকাশে চলন্ত বিমানের কেবিনের ছাদের অংশ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।