নিউজ ডেস্ক: মাসখানেকের মধ্যেই দুর্গাপুজো। আর দুর্গাপূজা মানেই নারী শক্তির জয়গান। ঠিক এই আবহেই দেখা গেল নারী শক্তির জয়গান। সিআরপিএফ-র কোবরা ইউনিটের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেলেন এক নারী। নাম সংযুক্তা পরাশর। তাঁর অসাধারণ সাহস এবং ক্ষমতার জন্যই তাঁকে এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে অসম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল চেনে 'আয়রন লেডি অফ অসম' নামে। এর নেপথ্যে আছে সংযুক্তা পরাশর-র বিশেষ একটি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা। আর সেটি হলো জঙ্গল যুদ্ধে পারদর্শিতা।
আইপিএস সংযুক্তা পরাশর সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স(সিআরপিএফ)-র বিশেষ জঙ্গল-যোদ্ধা কমান্ডো ইউনিট কোবরা' র প্রথম মহিলা ইন্সপেক্টর জেনারেল। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ-দমন অভিযানের সময় তাঁর নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, এবং জঙ্গল যুদ্ধে পারদর্শিতা তাঁকে পরিচিতি দেয় 'আয়রন লেডি অফ অসম' হিসেবে। জনসাধারণ তাঁকে বলেন 'লেডি সিংহম'।
মণিপুরে উগ্রপন্থীদের দমনে কোবরা বাহিনীর দুটি ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন করা হয়। এর বেশ কিছু মাস পরেই সংযুক্তা পরাশর এই বাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।গত মে মাসে, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযান দমনের জন্য ১১ তম 'কোবরা’ ব্যাটালিয়ন' গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে সিআরপিএফ। আগস্ট মাস থেকে সিআরপিফে ডেপুটেশনে থাকা সংযুক্তা পরাশর কোবরা-র আইজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার দানিশ রানার জায়গায় এই দায়িত্ব নেন।
গত শুক্রবার সংযুক্তা পরাশর কোবরার আইজি হিসেবে নিযুক্ত হন। দুর্দমনীয় এই অফিসার উত্তর পূর্বাঞ্চলে উগ্রপন্থীদের বিদ্রোহ অভিযান গুলিকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। অসম পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও অসমের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন প্রণয়নকারী এবং তদন্তকারী সংস্থা 'এনআইএ'র সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০২৩ সাল থেকে উগ্রপন্থীদের আক্রমণ এবং সংঘাতে ৩০৬ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ হয়েছে ৪৯ জন। মণিপুরের পুলিশ অস্ত্রাগার থেকে লুট হয়েছে অস্ত্র। এই লুঠ করা অস্ত্র উদ্ধার করতেই এবং একই সাথে বিদ্রোহকে দমন করতেই কোবরা কমান্ডোরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে চলেছেন ২০০৮ সালে গঠিত হয় এই কোবরা বাহিনী ও এবার অপরাধীদের দমন করতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই ইউনিটকে নেতৃত্ব দেবেন এই সাহসিনী।