বিশাখাপত্তনম, নিউজ ডেস্ক: সকালের ব্যস্ততার মধ্যে জায়গাটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন অনেকেই। হঠাৎ কয়েকটি ছেঁড়া কাগজের মতো জিনিস চোখে পড়ে। প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ছেঁড়া আবর্জনা। কিন্তু, একটু খেয়াল করতেই বদলে গেল ধারণা। একটু এগিয়ে যেতেই দেখা যায় সেগুলি একেবারে কোনও সাধারণ কাগজ নয়। আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা আরও কিছু সামগ্রী ঘটনাটিকে আরও অস্বাভাবিক করে তোলে এবং যা ঘিরে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত খবর যায় পুলিশের কাছে।
দেখুন: https://x.com/zingabad/status/2100114711979212996?s=20
বুধবার বিশাখাপত্তনমের সেন্ট্রাল পার্কের বাইরে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় বেশ কিছু ছেঁড়া ভারতীয় নোট। তারমধ্যে ছিল ১০, ৫০, ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট। নোটগুলি অক্ষত অবস্থায় ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে পথচারীদের। এরপরই সামনে আসে আরও একটি বিষয়। শুধুমাত্র টাকা নয়, ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় LIC-এর কয়েকটি রসিদ। তার পাশে পড়েছিল এক মহিলার প্যান কার্ড। ফলে, একই জায়গায় পৃথক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী কিভাবে এল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী নিজেদের হেফাজতে নেয় তাঁরা। প্যান কার্ডডি কার এবং সেই পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি কিভাবে সেখানে পৌঁছল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, LIC-এর রসিদগুলিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে পার্কের আশেপাশের CCTV ক্যামেরাগুলিও। কে বা কারা ওই জায়গায় এসেছিলেন, কেউ কোনও ব্যাগ বা সামগ্রী সেখানে রেখে গিয়েছিলেন কি না, কিংবা ঘটনাস্থলে কোনও অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা দিয়েছিল কি না, সবই ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে, এখনও পর্যন্ত ছেড়া নোট গুলি কেন সেখানে পড়েছিল, কে সেগুলি ছিড়েছে বা কিভাবে সেগুলি এই জায়গায় এল, তার কোনও নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। একইভাবে, LIC এর রসিদ ও প্যান কার্ড সেখানে কিভাবে এল সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রতিটি জিনিসই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। ছেঁড়া নোট, একটি মহিলার প্যান কার্ড, LIC-এর রশিদ, এইসব সামগ্রী ঘিরে এখন বিশাখাপত্তনমের সেন্ট্রাল পার্কের বাইরের ঘটনার রহস্যের জট খুলতে চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।