নিউজ ডেস্ক: প্যাসেঞ্জার ট্রেন না আস্ত খাটাল? কামরা ঠাসা গবাদি পশুর ঘাসে, চূড়ান্ত ক্ষোভ নিত্যযাত্রীদের। ট্রেনের উঠে আপনার মনে হতে পারে কোন খাটালে এসে গেছেন বা পণ্য পরিবহনকারী কামরা কিন্তু না, এটি কোনো পণ্যবাহী ভ্যান নয়, নিয়মিত ভাড়ার টিকিট কেটে চলাচল করা নিত্যযাত্রীদের সাধারণ লোকাল ট্রেনেরই ভেতরের ছবি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছোট ভিডিওকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ট্রেনের এই চরম বেহাল নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেটপাড়া। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে এনে একজন প্রশ্ন তুলেছেন ‘লোকাল ট্রেন নাকি গবাদি পশুর ঘাস টানার মালগাড়ি? ফারাক বোঝা দায়!’
ভাইরাল সেই দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের কামরার মেঝে থেকে শুরু করে যাত্রীদের বসার আসন সবটাই যেন গিলতে বসেছে পেল্লায় মাপের সবুজ ঘাসের আঁটি ও বস্তা। সাধারণ মানুষের চলাচলের বা পা ফেলার এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখা হয়নি। ঘাসের সেই পাহাড়প্রমাণ স্তূপের সঙ্গে রীতিমতো কুস্তির মতো ঠেলাঠেলি করে কোনোমতে গা বাঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। অফিস বা কাজের তাগিদে দৌড়োনো ক্লান্ত মানুষের ভিড় যেখানে নিত্যদিনের ট্রেনের চালচিত্র, সেখানে যাত্রীদের ঠেলে কীভাবে এমন ভারী পশুখাদ্য সাধারণ কামরায় তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভের পারদ চড়ছে।
রেলের সুস্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীবাহী লোকাল বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সাধারণ কামরায় কোনো ধরনের কৃষিপণ্য, পশুখাদ্য বা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সামগ্রী তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের সামগ্রী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্ডর বগি বা পার্সেল ট্রেনের ব্যবস্থা থাকে কিন্তু গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত শাখাগুলোতে টিকিট পরীক্ষক কিংবা রেল সুরক্ষা বাহিনীর ঢিলেঢালা নজরদারির কারণে এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো নিত্যদিনের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে।