নিউজ ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বিমান টিকিট কাটার আগে ভিসার নিয়ম একবার ভালো করে দেখে নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য একাধিক দেশের ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে কয়েকটি দেশে পৌঁছে ভিসা নেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে এখন ভ্রমণের আগেই ই-ভিসা, ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা অন্য কোনও অনলাইন অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পুরনো তথ্যের উপর নির্ভর করে বিদেশে গেলে বিমানবন্দরেই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাওস, কাতার এবং ইরানে ভারতীয়দের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভালের পরিবর্তে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অর্থাৎ, গন্তব্যে পৌঁছে আবেদন করার বদলে যাত্রার আগেই অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হবে। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এই পরিবর্তনটি বিশেষভাবে মাথায় রাখা প্রয়োজন।
শ্রীলঙ্কাতেও ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে যে পরিষেবাকে ই-ভিসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেটি এখন Electronic Travel Authorisation বা ETA হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
চিলি, ঘানা এবং ভেনেজুয়েলাতেও ভারতীয় পর্যটকদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আরও অনলাইনকেন্দ্রিক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা নিরাপদ।
কেপ ভার্দে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৯৬টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ব্যবস্থা বাতিল করেছে। সেই তালিকায় ভারতও রয়েছে। ফলে ভারতীয় যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
অন্যদিকে, নিকারাগুয়ায় ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। এখন অনলাইনে ইলেকট্রনিক ভিসার জন্য আবেদন করা অথবা ইমেলের মাধ্যমে নিকারাগুয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা নেওয়ার আগের সুবিধা আর নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়া দরকার ভিসা-অন-অ্যারাইভাল এবং ই-ভিসা এক জিনিস নয়। ভিসা-অন-অ্যারাইভালের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে গন্তব্যে পৌঁছনোর পর আবেদন করা যায়। অন্যদিকে ই-ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত যাত্রার আগেই অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হয়। ETA-ও আলাদা ধরনের ভ্রমণ অনুমোদন।
তাই বিদেশ যাওয়ার আগে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট বা পুরনো ট্রাভেল গাইডের উপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ইমিগ্রেশন পোর্টাল, দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত। পাসপোর্টের মেয়াদ, আবেদন ফি, প্রসেসিংয়ের সময়, অনুমোদনের মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আগে যাচাই করা দরকার।
বিশেষ করে নন-রিফান্ডেবল বিমান টিকিট বা হোটেল বুক করার আগে ভিসা বা ট্রাভেল অথরাইজেশন নিশ্চিত করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিয়ম পরিবর্তনের কারণে শেষ মুহূর্তে অনুমোদন না মিললে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনাই বাতিল হতে পারে।