নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ফের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন উভয় গোষ্ঠীর বক্তব্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। ১৭ সেপ্টেম্বরের শুনানির জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে ডেকেছিল কমিশন।
এদিন প্রথমে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কমিশন যে নথি চেয়েছিল, সেগুলি তাঁরা জমা দিয়েছেন। নিজেদের বক্তব্য এবং যুক্তিও কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বৈঠকের পর তিনি বলেন, তাঁরা জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তবে কমিশন কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা তিনি জানাননি।
এই প্রতীক-বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কেন্দ্র করে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ সাংগঠনিক প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে এবং ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছে এবং অতিরিক্ত নথি চেয়েছে।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন সামনে। ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা। দুই শিবিরই পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং উভয় পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করে লড়াই করার দাবি করেছে। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে উপনির্বাচনের লড়াই কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমাও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এখন উপনির্বাচনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সাংগঠনিক কাঠামো, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে দুই পক্ষের দাবিই যাচাই করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন কোন ব্যবস্থা নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অতীতে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে বিরোধের সময় নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে পৃথক নাম ও প্রতীক দিয়েছিল। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তবে কমিশন এখনও এমন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, কমিশনের চাওয়া সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছে এবং নিজেদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় যুক্তিও পেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন শিবিরও নিজেদের অবস্থান এবং নথি কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের সাংগঠনিক দাবিকে কমিশন গ্রহণ করে এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আপাতত কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দুই শিবির। আর সামনে উপনির্বাচন থাকায় প্রতীক-বিতর্কের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা জারি থাকবে।