কলকাতা: প্রথমবার রাজ্যে পালিত হল প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা দিবস। বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধা এবং রাজ্যের আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলার কারিগর ও হস্তশিল্পীদের জন্য বিশ্বকর্মা যোজনার সুযোগ তৈরি করার প্রসঙ্গ।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এর আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প যথাযথভাবে চালু করা হয়নি। বিশ্বকর্মা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় জেলা প্রশাসনকে বিশ্বকর্মা যোজনা নিয়ে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।
বিশ্বকর্মা যোজনায় কারিগরদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ছুতোর, মূর্তিকার, লোহার কাজের সঙ্গে যুক্ত কারিগর, তালা-চাবি প্রস্তুতকারক, কামার, নাপিত, মালাকার, মাছ ধরার জাল তৈরি করা মানুষ থেকে শুরু করে কাঠ, ঝিনুক ও পাট দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা শিল্পীরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। বংশপরম্পরায় চলে আসা দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান থেকে আগামী বছরের জন্যও বড় লক্ষ্যের কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা যোজনা নিয়ে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরে রাজ্যে প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বকর্মা প্রকল্পে এনরোলমেন্ট এবং শিল্পীদের অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে।
প্রশিক্ষণের বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দু বলেন, দক্ষ কারিগরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রশিক্ষণের সময় ভাতাও দেওয়া হবে। পাশাপাশি MSME দফতরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। অর্থাৎ শুধু প্রকল্পের তালিকায় নাম তোলা নয়, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কারিগরদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্যোগ পোর্টালের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে উদ্যম পোর্টালে ৯ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা ৬৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি বলে দাবি করেন তিনি। ছোট ব্যবসা ও শিল্পোদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গও আসে। শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে এবং দিনটিকে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
বিশ্বকর্মা যোজনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠান তাই শুধু একটি সরকারি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সরকারি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, উদ্যম পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার মতো একাধিক বিষয় উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। একইসঙ্গে আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও করেছেন তিনি। সেই রাজনৈতিক অভিযোগগুলির পাশাপাশি আগামী এক বছরে বিশ্বকর্মা যোজনার পরিধি কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।