নগরউখড়া: পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের কথোপকথনের একটি অডিয়ো ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ভাইরাল অডিয়োয় এক পুলিশ আধিকারিককে উদ্দেশ করে ‘টেনে বের করে নিয়ে যাব’, ‘কোন বাপ ঠেকায় দেখব’ এর মতো মন্তব্য শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও অডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি jazzbaat 24 বাংলা। তবে কথোপকথনটি তাঁরই বলে স্বীকার করেছেন অসীম সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত নগরউখড়ায় অটো-টোটো সংক্রান্ত একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তুষারকান্তি গাইনের সঙ্গে পুলিশি আচরণ নিয়ে দলের স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয়। বিষয়টি বিধায়ক অসীম সরকারের কাছে পৌঁছলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরই তাঁর কথোপকথনের ওই অডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল অডিয়োয় নগরউখড়া ফাঁড়ির আইসি অশোক বিশ্বাসকে উদ্দেশ করে অসীম সরকারকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি যত নরম, তত গরম।” মণ্ডল সভাপতিকে গ্রেফতার করার কথা বলা হয়েছে বলেও অডিয়োয় দাবি করা হয়। এরপরই বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “টেনে বের করে নিয়ে যাব। কোন বাপ ঠেকায় দেখব, আমাকে চেনে না এখনও।”
অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশের সঙ্গে একজন জনপ্রতিনিধির এই ধরনের কথোপকথন ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। যদিও অডিয়োটি সম্পাদিত কি না বা কথোপকথনের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অসীম সরকার। তাঁকে সরানোর দাবি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানানোর কথাও বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে ভাইরাল অডিয়ো নিয়ে নিজের বক্তব্যে পিছিয়ে যাননি বিজেপি বিধায়ক। বরং তিনি বলেন, “ভাইরাল করেছে ভালোই হয়েছে। মিথ্যা নিয়ে রাজনীতি করি না। সত্যের উপর রাজনীতি করি।” তাঁর দাবি, যারা অটো-টোটো ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তাঁদের সমর্থন করলে তিনি ওই পুলিশ আধিকারিককে ‘চুমু’ খাবেন না। পাশাপাশি নিজের অবস্থান বোঝাতে বলেন, “আমি গরমে গরম, নরমে নরম।”
অসীম সরকারের আরও বক্তব্য, তাঁর ‘রাডারে’ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে এবং তিনি দমে থাকার মানুষ নন। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও বাড়ে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফেও পাল্টা আক্রমণ এসেছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় অসীম সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, পুলিশকে পেটানোর মতো কথা বলা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, উত্তেজিত হয়ে ফোন করলে কি অপরাধের গুরুত্ব কমে যায়?
অডিয়োকে কেন্দ্র করে এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে একদিকে পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অন্যদিকে একজন বিধায়কের কথোপকথনের ভাষা। অডিয়োর পূর্ণ সত্যতা ও ঘটনার আইনি দিক কী, তা তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত ভাইরাল অডিয়ো এবং অসীম সরকারের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ঘিরে নদিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।