ভাঙড়: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ ঘিরে চর্চায় আইএসএফ। দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শোকজ ও সাসপেনশনের পদক্ষেপ করেছে দল। এবার সেই তালিকায় নাম উঠেছে আইএসএফের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের প্রাক্তন নেতা আরাবুল ইসলামের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, আইএসএফের রাজ্য কার্যকরী সভাপতি শামসুল আলি মল্লিককে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা আইএসএফের সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লাকেও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ফুরফুরা শরিফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁদের হাজির হতে বলা হয়েছে। সেখানে তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে বলে জানা গিয়েছে। উপস্থিত থাকার কথা আইএসএফের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীরও।
এই শোকজের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আইএসএফের প্রাক্তন নেতা আরাবুল ইসলাম সরাসরি নিশানা করেন নওশাদ সিদ্দিকী এবং আব্বাস সিদ্দিকীকে। আরাবুল নিজেও বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন। পরে তিনি দল ছেড়ে দেন। এবার দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, টাকা তোলার সঙ্গে শোকজের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আইএসএফ দুই ভাইয়ের দল। যারা টাকা তুলে দিতে পারবে না, তাদের শোকজ করা হবে। এরা পারেনি তাই শোকজ হয়েছে।” পাশাপাশি বুথে বুথে টাকা তোলা নিয়ে বিবাদের অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, যারা টাকা তুলতে পারছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে আরাবুলের এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে, শোকজ হওয়া এক নেতা অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, দল তাঁদের কিছু ভুলত্রুটি পেয়েছে এবং সেই কারণেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার জন্যই দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, যদি দলবিরোধী কোনও কাজ তাঁরা করে থাকেন, তাহলে দল যে ব্যবস্থা নেবে, তা মেনে নেওয়া হবে। দলের কাছে সকলেই সমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই আইএসএফের অন্দরে সাংগঠনিক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। কারিমুল ইসলাম, রাহুল মোল্লা-সহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও সাসপেনশন ও শোকজের মতো পদক্ষেপের কথা জানা গিয়েছে। এবার শামসুল আলি মল্লিক এবং আব্দুল মালেক মোল্লাকে শোকজ করায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ফুরফুরা শরিফে দুই নেতার বক্তব্য শোনার পর দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। একইসঙ্গে আরাবুল ইসলামের তোলা অভিযোগ নিয়ে আইএসএফের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। আপাতত শোকজের ঘটনা এবং তাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।