সিঙ্গুর: একসময় যে জমিকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরেই এবার শিল্প ফেরার আশায় বিশ্বকর্মার আরাধনা। টাটাদের কারখানার জন্য নির্ধারিত জমির বিভিন্ন জায়গায় এখনও ছড়িয়ে রয়েছে লোহার রড, ইট এবং ভাঙা দেওয়ালের অংশ। সেই স্মৃতিচিহ্নকে সামনে রেখেই বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদ’-এর উদ্যোগে এবার বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। তৃণমূল আমলে তৈরি শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে তৈরি হয়েছে পুজোর মণ্ডপ। সকাল থেকেই সেখানে উৎসবের আবহ। ঢাকের আওয়াজ, স্থানীয় মানুষের আনাগোনা এবং পুজোর প্রস্তুতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে এলাকা।
তবে এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরার প্রত্যাশাও। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বিশ্বকর্মার কাছে তাঁদের একটাই প্রার্থনা সিঙ্গুরের দীর্ঘদিনের শিল্পখরা যেন এবার কাটে।
কৃষিজমিতে শিল্পের অপেক্ষা
একসময় যে জমিতে কৃষকরা ধান চাষ করতেন, বর্তমানে তার একটি অংশ চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। জমিতে আগামী কয়েক বছর চাষবাস করা সম্ভব হবে না এমন বাস্তবতাও অনেক কৃষক মেনে নিয়েছেন বলে খবর।
ফলে তাঁদের একাংশের প্রত্যাশা, এই জমিতে নতুন করে শিল্প গড়ে উঠুক। শিল্প এলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য কাজের সম্ভাবনা বাড়বে এমনটাই আশা তাঁদের।
সিঙ্গুরের সঙ্গে টাটাদের ন্যানো প্রকল্পের ইতিহাসও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর টাটা মোটরস সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে শিল্পায়ন বনাম কৃষিজমি এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে সিঙ্গুর।
নির্বাচনের আগে শিল্পের প্রতিশ্রুতি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। দলের রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক নেতার বক্তব্যেও সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের শিল্পের দাবি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিঙ্গুরের বিধায়ক অরূপকুমার দাস জানিয়েছেন, তাঁদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের কথা বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকার আগামী দিনে সিঙ্গুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবে। এদিকে বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর। তাঁকে সামনে পেয়ে কৃষকরা শিল্পের দাবি জানাতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন তাই সিঙ্গুরে শুধু পুজোর আবহ নয়, রয়েছে শিল্প নিয়ে নতুন প্রত্যাশাও। দীর্ঘদিনের স্মৃতি, অনুর্বর হয়ে পড়া জমি এবং কর্মসংস্থানের অপেক্ষার মধ্যেই স্থানীয়দের প্রশ্ন সিঙ্গুরে কি সত্যিই এবার ফিরবে শিল্পের দিন?