কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সেদিন হয়তো অন্যদিনের মতোই ছিল। ট্রেনের যাত্রা স্বাভাবিক চলছিল বাইরে ছুটছিল পরিচিত দৃশ্য। হঠাৎ কয়েকটি মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে গেল একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। যে ঘটনার রেশ থেকে গিয়েছিল বছরের পর বছর, শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাতেই এল আদালতের বড় সিদ্ধান্ত।
ঘটনাটি ২০১২ সালের ২১ জানুয়ারি। ওইদিন এক মহিলা তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। উলুবেরিয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝামাঝি এলাকায় সিগন্যাল লাল থাকায় ট্রেনটি আইনের উপর দাঁড়িয়ে যায়। এই সময় মহিলাটির পরিবারের সদস্যরা ট্রেন থেকে নেমে যান। পরিবারের অন্যরা নেমে গেলেও ওই মহিলা তখনও ট্রেনের ভিতরে ছিলেন। পরে তিনি নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই আচমকাই ট্রেনটি চলতে শুরু করে। এরপর ভারসাম্য হারিয়ে লাইনে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতরো ভাবে চোট লেগে আহত হন ওই মহিলা।
এরপর দ্রুত তাঁকে উলুবেড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে, উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের ৫ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর মৃত মহিলার পরিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি পথে যায় কিন্তু সেই দাবি সহজে মঞ্জুর হয়নি। ২০১৮ সালের রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেয়। ট্রাইব্যুনালের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনাটি রেলওয়ে আইনের আওতায় 'অপ্রীতিকর ঘটনা' হিসেবে গণ্য করা যায় না।
পরবর্তীকালে, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতার হাইকোর্টের দারস্ত হয় ওই পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটির চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ট্রাইব্যুনালের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মৃত মহিলার পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। ফলে, প্রায় এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার মামলায় অবশেষে পরিবারের জন্য এল আদালতের স্বস্তির নির্দেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলল ক্ষতিপূরণের পথ।