স্পোর্টস ডেস্ক: দুর্দান্ত হেডারে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক ছোঁয়া। তার পরেই ট্রফিতে হাত। লিওনেল মেসির জোড়া কীর্তিতে বুধবার রাতে ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম বার ক্যাম্পেওনেস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি। মায়ামির জার্সিতে সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। শুধু গোল করেই থামেননি, দ্বিতীয় গোলটিতেও অবদান ছিল লিওর। তাঁর কর্নার থেকেই ৮১ মিনিটে হেডে গোল করেন ব্রাজিলীয় তারকা ক্যাসিমিরো। ফলে নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসের দায়িত্বের প্রথম ম্যাচেই ট্রফি এল মায়ামির ঘরে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের দু’মাস পর এই জয় মেসির হাতে এনে দিল বছরের প্রথম ট্রফি।
মায়ামির প্রথম গোলটি ২৪ মিনিটে। লুইস সুয়ারেসের বাইলাইন থেকে ভেসে আসা ক্রসের দিকে ছুটে গিয়ে ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান এল এম টেন। মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার মেসিকে ক্রুজ আজুলের উইলার দিত্তাকে টপকে এ ভাবে হেডে গোল করতে দেখে অবাকই হয়েছেন অনেকে। মায়ামির হয়ে মেসির ১০০ তম গোলটিও এল এমন এক অস্ত্রে, যা তাঁর ফুটবলজীবনে খুব বেশি দেখা যায়নি। গোলের পরেও আক্রমণের ধার কমায়নি মায়ামি। ৩২ মিনিটে মেসির বাড়ানো অসাধারণ ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন সুয়ারেস। তাঁর পাস থেকে জার্মান বেরতেরামে গোল করার চেষ্টা করলেও ক্রুজ আজুলের এক ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে বল বার করে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও এক বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মেসি। সুয়ারেসের থ্রু বল ধরে একা গোলরক্ষকের দিকে এগিয়ে গিয়ে পোস্টে বল মারেন তিনি। জালে বল ঢুকলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পেয়েছিল ক্রুজ আজুল। পরিবর্ত হিসাবে নামা গ্যাব্রিয়েল ফের্নান্দেসের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি শটও আটকে দেন ক্যাসিমিরো। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্যাসিমিরোর হেডেই মায়ামির জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ দিকে ক্রুজ আজুলের ফ্রি-কিকও রুখে দেন মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার।
ক্যাম্পেওনেস কাপের এটি ছিল অষ্টম সংস্করণ। আগের মরশুমের এমএলএস কাপজয়ী দলের সঙ্গে মেক্সিকোর ‘ক্যাম্পেওন দে ক্যাম্পেওনেস’-এর বিজয়ীর লড়াই হয় এই প্রতিযোগিতায়। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি আয়োজন করে এমএলএসের দল। বুধবারের আগে টানা তিনবার মেক্সিকোর দল এই ট্রফি জিতেছিল। সেই ধারায় ছেদ টেনে প্রথম বার কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি। মেক্সিকোর অন্যতম বড় ক্লাব ক্রুজ আজুলের অবশ্য এখনও এই ট্রফি অধরা। ২০২১ সালের ফাইনালেও তারা হেরেছিল। আর মায়ামির ইতিহাসে এই জয় লেখা রইল এল এম টেনের ১০০ তম গোলের রাত হিসাবেই।