নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার নন্দনকাননে নতুন ঘরের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে বালাসোরের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ বিরল প্রজাতির ওরাংওটাং শাবক। নতুন পরিবেশে মা-হারা পাঁচ শাবকগুলিকে প্রথমদিকে বেশ অস্থিরই দেখাচ্ছিল। একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে থাকছিল তারা। মুখ থেকে বের করছিল অদ্ভুত শব্দও। যা দেখে কর্মীদের ধারণা হয়, ভয় এবং মানসিক চাপ থেকেই এমন আচরণ করছিল খুদেরা। সেই চাপ কমাতে পণ্ডিত ভীমসেন জোশীর শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শোনানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতেই কাজ হয়েছে একেবারে ম্যাজিকের মতো।
দরবারি কানাড়ায় বেজে চলেছে ‘ঝনক ঝনকবা’। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে শাস্ত্রীয় সুর। আর সেই সুরে বুঁদ হয়ে মাথা দোলাচ্ছে পাঁচ খুদে ওরাংওটাং! ওড়িশার নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে গেলে এখন দেখা যাচ্ছে এমনই অভিনব দৃশ্য। এ ছাড়া তাদের দেওয়া হয়েছে আরও নানারকম খেলনা। সেই সমস্ত মুহূর্তেও ইতিমধ্যে ভাইরাল সমাজ মাধ্যমে। উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর বালাসোরের রাঙ্কোঠা বড়পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় শাবকগুলিকে। পরে তাদের নিয়ে আসা হয় নন্দনকাননে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সঙ্গে যোগ থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বন দফতর।
কিন্তু এত কিছু থাকতে মিউজিক থেরাপি কেন? নন্দনকাননের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রদীপ মিরাসে জানিয়েছেন, বিভিন্ন গবেষণাপত্র খতিয়ে দেখে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। শুধু গান নয়। খুদে প্রাণিগুলির জন্য এনক্লোজারে ঝোলানো হয়েছে দোলনা। রাখা হয়েছে নরম খেলনাও, যাতে সেগুলি জড়িয়ে ধরে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাতে বেশ সাড়াও মিলেছে। ধীরে ধীরে ভয় কাটিয়ে এখন অ্যানিম্যাল কিপারদের সঙ্গে ভাব জমেছে পাঁচ শাবকের। খেলাধুলো, দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি জানলা বেয়ে ওঠার চেষ্টাও করছে তারা।
শাবকগুলির বয়স এক থেকে দুই বছরের মধ্যে হলেও চারটির বয়স এক বছরেরও কম বলে জানা গিয়েছে। পাঁচটি শাবকই ভিন্ন ভিন্ন মায়ের সন্তান। তাদের খাবারের দিকেও রয়েছে বিশেষ নজর। মাত্র একটি শাবক নিজে হাতে কলা খেতে পারছে। বাকিদের সেদ্ধ আপেল, কলা এবং ‘সিমিল্যাক’ নামে কম-ল্যাকটোজযুক্ত খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর খাবার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ঘরে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাদের। পাঁচটির মধ্যে একটি শাবকের জ্বর রয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে আলাদা ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাকিদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলেই চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর।
প্রায় ৪ সপ্তাহের জন্য পাঁচ শাবককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এই সময়ে তাদের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তনের উপর নজর থাকবে। সুস্থ থাকলে পরে রোদ পোহানোর জন্য অন্য এনক্লোজারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে ওরাংওটাংয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পুনর্বাসনে ভারতের অভিজ্ঞতা সীমিত। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ মহন্তের মতে, প্রয়োজনে থাইল্যান্ড বা সুমাত্রার অভিজ্ঞ রেস্কিউ সেন্টারগুলির বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। তাই এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি। আপাতত অবশ্য ভীমসেনের দরবারি কানাড়া, দোলনা আর নরম খেলনার সঙ্গেই নতুন ঘরকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করছে পাঁচ খুদে অতিথি।