নয়াদিল্লি: চিন ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা ঘিরে ফের বাড়ছে নজরদারি। সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচির আকাশে একটি চিনা Y-20 এরিয়াল ট্যাঙ্কার থেকে দুই J-16 যুদ্ধবিমানে মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার খবর সামনে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের আকাশসীমা ও সামরিক পরিকাঠামো চিনের দীর্ঘপাল্লার বিমান পরিচালনায় কতটা ব্যবহৃত হতে পারে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনা বিমানবাহিনীর Y-20 ট্যাঙ্কার পাকিস্তানের আকাশসীমায় দুই J-16 যুদ্ধবিমানকে আকাশেই জ্বালানি সরবরাহ করেছে। এই ধরনের ‘এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং’ যুদ্ধবিমানের অপারেশনাল পরিসর ও আকাশে থাকার সময় বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সামরিক মহড়ার অংশ, নাকি চিন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার আরও বড় চিত্রের ইঙ্গিত—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর পাশাপাশি, ওপেন-সোর্স ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানে চিন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহণ বিমানের তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন ধরে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদেশি সামরিক বিমানের যাতায়াত নজরে এসেছে। তবে ওই বিমানগুলিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা নেই। ফলে অস্ত্র বা নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের দাবিগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
অপারেশন সিঁদুরের পর নতুন করে প্রশ্ন
চিন-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের পর। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ওই সংঘাতে পাকিস্তানের চিনা-উৎপত্তির অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছিল। ভারতীয় সরকারি বিবৃতিতে PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং চিনা সরঞ্জামের ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পাকিস্তানকে চিনা সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। তবে এই সহযোগিতার সঠিক মাত্রা এবং অপারেশন চলাকালীন চিনের সরাসরি সামরিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন দাবি রয়েছে। একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ব্যবহৃত চিনা অস্ত্রের কার্যকারিতা থেকে সরাসরি চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সক্ষমতা বিচার করা ঠিক হবে না, কারণ চিন নিজস্ব বাহিনীতে আরও উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে।
ভারতের সামনে কী প্রশ্ন?
মূল উদ্বেগের জায়গা হল, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি বা আকাশসীমা চিনা সামরিক বিমানের দীর্ঘপাল্লার অভিযানে কতটা ব্যবহার করা হয়। এমনটা নিয়মিত হলে চিনের পশ্চিম দিকের বিমান অভিযান পরিচালনার পরিসর বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের।
তবে একই সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের BRICS সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। দুই দেশ সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
অর্থাৎ একদিকে দিল্লি-বেজিংয়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নজরদারিও চলছে। করাচির আকাশে Y-20-এর জ্বালানি সরবরাহের ঘটনাটি সেই দ্বৈত বাস্তবতাকেই আরও সামনে এনে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, এই ধরনের সামরিক তৎপরতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকে, নাকি আগামী দিনে আরও নিয়মিত রূপ নেয়।