ফ্লোরিডা: পারিবারিক অশান্তির জেরে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আমেরিকার ফ্লোরিডায় এক মা ও তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪৬ বছর বয়সি ওই মহিলার নাম ক্রিস্টিনা ক্লিমেন্স। সম্প্রতি তিনি নিজেই পুলিশের কাছে ফোন করে তাঁর ২২ বছরের ছেলে শেন ক্লিমেন্সের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শেনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।তবে পুলিশের জেরায় শেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ১৮ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁর মা তাঁকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ প্রথমে যে অভিযোগ মায়ের তরফে করা হয়েছিল, তদন্তের সময় ছেলের বক্তব্যে তার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ছবি সামনে আসে।
এরপর পুলিশ মা ও ছেলেকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছে ক্রিস্টিনা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ, ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই সম্পর্ক শতাধিকবার পর্যন্ত ঘটেছে এবং দু’জনের সম্মতিতেই তা হয়েছিল। তদন্তকারীদের সামনে এমন তথ্য আসার পরই মামলাটি নতুন মোড় নেয়। পুলিশ দু’জনকেই হেফাজতে নেয়। ঘটনার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরা কতটা পরিচিত ছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
স্বামীর বক্তব্যেও চাঞ্চল্য
ঘটনাটি জানার পর ক্রিস্টিনার স্বামী পুলিশকে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে কিছুই জানতেন না। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে তাঁদের পারিবারিক জীবন স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। তবে স্ত্রী ও ছেলেকে মাঝে মাঝে ঘরের দরজা বন্ধ করে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সেই আচরণ তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি করলেও বিষয়টি যে এতটা গুরুতর হতে পারে, তা তিনি কখনও ভাবেননি বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন।
আদালতে কী হল?
ঘটনায় ক্রিস্টিনার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা ও ব্যভিচার-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আদালত তাঁকে ৬,২৫০ ডলারের বন্ডে জামিন দিয়েছে। অন্যদিকে শেনের বিরুদ্ধেও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মা ও প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের মধ্যে এমন সম্পর্কের অভিযোগ, তার পর পুলিশের কাছে দু’জনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সব মিলিয়ে তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।