নিউ ইয়র্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহেই নিউ ইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁদের। এই সফরের জন্য তাঁদের ভিসা অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে যুদ্ধের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক যখন চরম টানাপোড়েনের মধ্যে, তখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আমেরিকা সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
সফরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায় আমেরিকার মাটিতে পৌঁছনোর পর ইরানের প্রেসিডেন্টকে কি গ্রেফতার করা হতে পারে? সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের ক্ষেত্রে বিশেষ আন্তর্জাতিক আইনি সুরক্ষা কার্যকর থাকে। সেই কারণে রাষ্ট্রসংঘের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তাঁদের গ্রেফতার বা বাধা দেওয়ার সুযোগ মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সীমিত।
রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত হলেও সেটিকে পুরোপুরি মার্কিন ভূখণ্ডের সাধারণ আইনি কাঠামোর সঙ্গে এক করে দেখা হয় না। রাষ্ট্রসংঘের কাজে অংশ নিতে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। ফলে ভিসা দেওয়ার পর তাঁদের রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াই নিয়ম।
তবে এর অর্থ এই নয় যে গোটা আমেরিকায় তাঁদের অবাধ চলাচলের অনুমতি থাকবে। ইরানি প্রতিনিধিদলের উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে তাঁদের চলাচলের পরিধি সীমিত রাখা এবং রাষ্ট্রসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের ইরানি প্রতিনিধিদলও অন্যান্য বছরের তুলনায় ছোট হতে পারে। সফরকারীদের উপর মার্কিন পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি থাকলেও সফরটি একাধিক প্রশাসনিক শর্তের মধ্যে দিয়েই হবে।
এই সফরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইরান ও প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতির পার্থক্য। ইরানের প্রেসিডেন্ট ও বিদেশমন্ত্রীকে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়া হলেও প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়নি। ফলে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মাহমুদ আব্বাসের পরিবর্তে গত বছরের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। একইসঙ্গে প্যালেস্টাইন অথোরিটি ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও সামনে রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের আবহে পেজেস্কিয়ানের নিউ ইয়র্ক সফর কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আমেরিকা-ইরান সংঘাত, অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চ এই দুইয়ের মাঝেই ইরানি প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে নজর থাকবে মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার দিকে।