নিউজ ডেস্ক: অবসরের পর নিয়মিত আয়ের চিন্তা অনেকেরই থাকে। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর জমানো টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদে সুদ পাওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের জন্য পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS) একটি উল্লেখযোগ্য সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প। এই প্রকল্পে এককালীন সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ সুদের হারে বছরে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ পাওয়ার হিসাব করা যায়। তবে বিনিয়োগের আগে বয়স, সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত জেনে নেওয়া জরুরি।
এক বছরে কীভাবে মিলবে ২.৪৬ লক্ষ টাকা?
ধরা যাক, কোনও যোগ্য বিনিয়োগকারী SCSS-এ এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা জমা করলেন। বার্ষিক সুদের হার ৮.২ শতাংশ হলে এক বছরে সুদের অঙ্ক দাঁড়াবে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি তিন মাসে গড়ে ৬১,৫০০ টাকা সুদ পাওয়ার হিসাব করা যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রকল্পে সুদ মাসে মাসে দেওয়া হয় না। সুদ মেলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে। এই হিসাবের ক্ষেত্রে ৮.২ শতাংশ সুদের হার বহাল থাকার বিষয়টি ধরে নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সুদের হার পরিবর্তিত হলে প্রাপ্ত সুদের পরিমাণও বদলে যেতে পারে।
কারা খুলতে পারবেন এই অ্যাকাউন্ট?
সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম মূলত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য তৈরি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী এবং প্রতিরক্ষা কর্মীরাও ৬০ বছরের কম বয়সে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স ও অবসরের সময় সংক্রান্ত বিশেষ নিয়ম রয়েছে।
এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কত বছরের জন্য টাকা রাখতে হবে?
SCSS-এর প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগকারী নিজের জমা টাকা তুলে নিতে পারেন। চাইলে নির্ধারিত শর্ত মেনে আরও তিন বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
মাসে মাসে কি টাকা পাওয়া যাবে?
না, এই প্রকল্পে সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে যাঁরা মাসিক আয়ের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি সুদের আয় করযোগ্য হতে পারে এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী কর কাটা হতে পারে।
অবসরের পর নিয়মিত সুদের আয় ও সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে SCSS বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে বর্তমান সুদের হার, করের নিয়ম এবং মেয়াদপূর্তির শর্ত যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।




