নিজস্ব প্রতিবেদন: বোর্ড গঠনের দিনক্ষণ ঠিক, তার আগের রাতেই নতুন করে উত্তেজনা ইসলামপুরে। শিলিগুড়ির একটি হোটেল থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগদানকারী পঞ্চায়েত সমিতির পাঁচ সদস্যকে আটক করল ইসলামপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের কথা। তার ঠিক আগের রাতে এই পুলিশি পদক্ষেপ ঘিরে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগ দেওয়া ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির পাঁচ সদস্য। সেখান থেকেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
এই ঘটনার পিছনে রয়েছে ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ডের দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। এরপর থেকেই সদস্যদের দলবদল ঘিরে বদলাতে থাকে রাজনৈতিক সমীকরণ।
ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট সদস্য সংখ্যা ৩৮। অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ২০ জন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যোগদান করেছেন। অন্যদিকে, বাকি ১৮ জন সদস্য রয়েছেন এনসিপিআইয়ের (NCPI) পক্ষে। ফলে সংখ্যার অঙ্কে বোর্ড গঠনের আগে মোর্চার সদস্যদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বোর্ড গঠনের কয়েক ঘণ্টা আগে পাঁচ সদস্যকে শিলিগুড়ির হোটেল থেকে আটক করার ঘটনা নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তাঁদের আটক করার পিছনে কোনও প্রশাসনিক কারণ রয়েছে, নাকি বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে এর যোগ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মঙ্গলবারের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে ইসলামপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে সকলের। পাঁচ সদস্যকে আটকের পর বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব পড়বে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তবে পুলিশের তরফে আটকের কারণ এবং সদস্যদের পরবর্তী অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। বোর্ড গঠনের আগে এই পাঁচ সদস্যের ভূমিকা এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ দুইয়ের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




