নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরাজয়, ক্ষমতার সমীকরণ বদল এবং বিরোধীদের ভূমিকা, এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হলো রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক মন্তব্য ঘিরে যখন উত্তাপ বাড়ছে, তখন এবার দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হলেন বাংলার এক মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে লোকসভার বিরোধী দলনেতার নাম। রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
খড়গপুর থেকে এবার সরাসরি আক্রমণের নিশানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দুবার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও কিভাবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দিলীপের বক্তব্য, গত নির্বাচনে তাঁর দল জয়ী হওয়ায় পিছনের দরজা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এবার তাঁর দলই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বলে দাবি দিলীপের।
শুধুমাত্র নির্বাচনী ফলাফল নয়, মমতার দিল্লি সফর নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় দিলীপ ঘোষকে। তাঁর কথায়, "বাংলায় আর জায়গা না পেয়ে এখন দিল্লিতে গিয়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যে দু দুবার হেরে গেছে সে আর কি করবে। দলটারই তো বিসর্জন হয়ে গিয়েছে" রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল নেতাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিলিপের এই মন্তব্যকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, “বিদেশি অর্থ, বিদেশী শক্তি এবং বিদেশি প্ররোচনায় দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন কংগ্রেস নেতা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরোধিতা করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করাও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ধারায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।”
দিলীপ ঘোষের কথায়, “রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই একই পথে এগিয়ে চলেছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকারের বিরোধিতা করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো তাঁর রাজনৈতিক ঐতিহ্য পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী।”
সব মিলিয়ে খড়গপুর থেকে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির বিতর্ক সামনে এসেছে, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বাকযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। এবার এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া কি আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




