নিউজ ডেস্ক: দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে এবার নতুন করে চর্চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির রাজনৈতিক সমীকরণ। একই মঞ্চে পাশাপাশি বসে দু’জনের কানাকানি করার একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পোস্ট ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রামলীলা ময়দানে পাশাপাশি বসে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবি। দু’জনকে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেও দেখা গিয়েছে। সেই ছবিই পোস্ট করে ঋতব্রত লেখেন, “যে মন ভুল পথে থাকতেই বেশি পছন্দ করে, তাতে ঠিক করা যায় না।” ফরাসি দার্শনিকের উক্তি উল্লেখ করে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
https://x.com/RitabrataBanerj/status/2117480600831717512?a=dRNQDFmP3eoHyc5xSqQ&s=20
আসলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই সামনে এসেছে এই রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রথমে এম এ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠান। যদিও সেই চিঠি শুধু মমতাকে নয়, অন্যান্য বিরোধী নেতানেত্রীদের কাছেও পাঠানো হয়েছিল। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে এম এ বেবির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা যে চলছে, এই ঘটনাগুলিকে তারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
ঋতব্রতর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা ও বেবির এই সৌজন্যমূলক ঘনিষ্ঠতাকে সামনে এনে তিনি রাজ্যে তৃণমূল ও সিপিএমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছেন। একইসঙ্গে বাংলায় বিজেপিই যে প্রধান বিরোধী শক্তি, সেই বার্তাও তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, ঋতব্রতর কটাক্ষকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মমতা তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ঋতব্রতর মন্তব্যের কোনও রাজনৈতিক মূল্য নেই। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মমতার সঙ্গে অন্য নেতার কথা বলাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখানোর কোনও কারণ নেই।
এদিকে সোমবারের সভা থেকেও এই প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ও সিপিএম মিলেমিশে বাংলায় ফের অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। দিল্লিতে বেবি ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ফলে দিল্লির একটি ছবি ঘিরেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তৃণমূল, সিপিএম ও বিজেপির বাকযুদ্ধ।




