কলকাতা: ধনতেরাসের আগে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন। উৎসবের মরশুমে গয়না বা মূল্যবান ধাতু কেনার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। ৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি দেশীয় বাজারেও দাম কমেছে। বিশেষ করে রুপোর দামে বড় পতন নজরে এসেছে। ফলে ৬ নভেম্বর ধনতেরাসের আগে অনেকেই হিসেব কষছেন, এখনই সোনা-রুপো কিনবেন, নাকি আরও কিছুটা দাম কমার অপেক্ষা করবেন?
৩ নভেম্বর মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর ভবিষ্যৎ দর প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। প্রতি কেজিতে দাম কমে ৫১৫৫ টাকা। সকাল ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ রুপোর দর দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬২৪ টাকা। এর আগে অক্টোবর মাসেও মূল্যবান ধাতুর বাজারে বড়সড় সংশোধন দেখা গিয়েছিল। ওই মাসে রুপোর দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং সোনার দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল।
এখনই কি সোনা কেনার সঠিক সময়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনের দরপতন দেখেই সোনা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম, মার্কিন ডলারের অবস্থান, সুদের হার এবং টাকার বিনিময়মূল্য এই সমস্ত বিষয় দেশের বাজারে সোনা-রুপোর দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
গিওটাসের কর্ণধার বিক্রম সুব্বুরাজের মতে, বাজারের ওঠানামার মধ্যে একসঙ্গে পুরো টাকা বিনিয়োগ না করে ধাপে ধাপে কেনাকাটা করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। এতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি সামলানো সহজ হয়।
গয়না, কয়েন নাকি রুপো কী কিনবেন?
গয়না কেনার ক্ষেত্রে শুধু সোনার দাম দেখলেই হবে না। মজুরি, অপচয় বাবদ খরচ এবং GST-র হিসেবও রাখতে হবে। কেনার আগে হলমার্ক ও ছয় অঙ্কের HUID নম্বর যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে, মজুরি এড়াতে সোনার কয়েন কেনার কথা ভাবতে পারেন। তুলনায় কম বাজেটে ধনতেরাসের কেনাকাটা করতে চাইলে রুপোর কয়েন, প্রদীপ বা বাসনও বিকল্প হতে পারে। তবে রুপোর দামও দ্রুত ওঠানামা করে।
ডিজিটাল সোনায় বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ?
অল্প টাকায় সোনা কেনার জন্য ডিজিটাল গোল্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেফগোল্ডের প্রতিষ্ঠাতা গৌরব মাথুরের দাবি, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তাঁদের প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটা দেড় থেকে দু'গুণ বেড়েছে। তবে ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগের আগে সংরক্ষণ, বিক্রির নিয়ম এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ এটি সেবি নিয়ন্ত্রিত গোল্ড ETF-এর সমতুল্য নয়।
সব মিলিয়ে ধনতেরাসের আগে সোনা-রুপোর বাজারে এই পতন ক্রেতাদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কেনাকাটার আগে নিজের বাজেট, প্রয়োজন এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।




