তেলেঙ্গানা, নিউজ ডেস্ক: রাতে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ যাত্রীদের চোখের সামনেই ঘটল এক নিন্দনীয় দৃশ্যটি। কোনো সিনেমা নয়, বাস্তবে চোখের সামনে ঘটছে এই ধরনের ঘটনা দেখে চমকে গেছেন অনেকেই। একেবারে রক্তমাংসের এক মহিলাকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড় মেরে, চুলের মুঠি ধরে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন খোদ উর্দিধারী রক্ষী!
শুক্রবার গভীর রাতে তেলেঙ্গানা রেল স্টেশনের বাইরের এমনই এক হাড়হিম করা ফুটেজ ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফুঁসছে নেটিজেনরা। প্রশ্ন উঠছে, আইনের রক্ষকই যদি এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভক্ষক হয়ে ওঠেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
স্টেশন চত্বরে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার রাত তখন বেশ গড়িয়েছে। স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় কর্তব্যরত ওই কর্মীর। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই মহিলা কিছুটা আশালীন কথাবার্তা বলছিলেন। কিন্তু সেই সামান্য তর্কাতর্কি যে এমন হিংস্র রূপ নেবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেননি।
ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, বিতণ্ডা হতে হতেই মেজাজ হারান সেই উর্দিধারী।হঠাৎই মারতে থাকেন ওই মহিলাকে। এখানেই শেষ নয়, একপর্যায়ে ওই নারীর চুলের মুঠি ধরে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে। চারপাশে ভিড় থাকলেও মারমুখী রক্ষীর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। দূর থেকে অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী সেই ছবি মোবাইলে বন্দি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই হইচই পড়ে যায়।
দেখুন: https://x.com/VoiceUpMedia1/status/2100999604246618242?s=20
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন, একজন পুরুষ কর্মী কীভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় এমন চরম হিংস্র আচরণ করতে পারলেন এক মহিলার সাথে ? বাকবিতণ্ডা হলেও কি এইভাবে মারধর করা যায় ? ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন তারা।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে রেল প্রশাসন। শুরুতে অভিযুক্তকে আরপিএফ জওয়ান বলে দাবি করা হলেও, রেল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি রেলের নিজস্ব কর্মী নন। তিনি মূলত রাজ্য পুলিশের এক হোমগার্ড, যাকে সাময়িকভাবে স্টেশনের নিরাপত্তার কাজে লাগানো হয়েছিল। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রেল পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তও শুরু করা হয়েছে।