কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একটি ঘর, টেবিলের ওপর সাজানো রয়েছে কয়েক বান্ডিল টাকা এবং ক্যামেরার সামনে এক ব্যক্তি। দৃশ্যটি নতুন নয়, কিন্তু হঠাৎ করেই পুরনো সেই ছবি যেন আবার ফিরে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সময় বদলেছে এবং সাথে বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। তবুও সমাজমাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের সেই ফুটেজ ঘিরে শুরু হয়েছে জোরচর্চা। এবার সেই পুরনো ভিডিওর সূত্রের সামনে এসেছে তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বহু চর্চিত নারদা স্টিং অপারেশনের পুরনো ফুটেজ বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কয়েক বান্ডিল টাকা নিতে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর অডিওতে এক ব্যক্তির কণ্ঠস্বরও শোনা যাচ্ছে। ফুটেজে দেখা যায় টেবিলের ওপর বেশ কয়েক বান্ডিল টাকা রয়েছে। ঘরের পিছনের দেয়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও দেখা যায়। ভিডিওতে এক ব্যক্তির কাছে তৃণমূল নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নেওয়ার কথা উঠে আসে।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালে নারদা স্টিং অপারেশন প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম ও আলোচনায় আসে। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে নারদা কান্ডের অন্যতম রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রেক্ষাপট আলাদা। নারোদা কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অতীতের বিভিন্ন সময়ে ভিডিওর গ্রহণযোগ্যতা এবং স্টিং অপারেশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে পুরনো ফুটেজ নতুন করে ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ার দাবি যাচাই করা জরুরী।
এরই মধ্যে কুনাল ঘোষ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ভিডিওটির পুনরায় প্রচার নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুনালের মন্তব্যকে ঘিরে কাকলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কাকলির অভিযোগের ভিত্তিতে কুনালকে বারাসাত থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই নারদা কাণ্ডের পুরনো ফুটেজের পুনরুত্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
তবে, ২০১৬ সালের সেই বহু আলোচিত নারদা স্টিং অপারেশনের স্মৃতি যে এখনও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক ফের ভাইরাল হওয়া ভিডিও যেন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের কুড়িজন সাংসদ দলত্যাগের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ যেন বেড়েই চলেছে। রাজনীতিতে একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন কিছু নয়। তবে, নারদাকাণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ফের রাজনৈতিক জল্পনা শুরু করেছে।